আলোচনায় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলার দুই ফ্রন্টের চার নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপিসহ গণফোরামের সভাপতি দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সভাপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট দেশের চলমান রাজনীতি আলোচনার অন্যতম বিষয়।
কারণ অনেক সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাগণ ওই ফ্রন্টে যোগদান করছেন। সদ্য যোগদানকারী সকল নেতৃবৃন্দই চান নিজের এলাকার জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে। তবে দল বদলকারী এসব নেতাদের দুই ফ্রন্ট কতটুকু মূল্যায়ন করবে তা দেখার বিষয়।
ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টে যোগদান করে মনোনয়ন পাওয়ার জোর তদবির ও লবিং করে যাচ্ছেন তাঁরা। দুই ফ্রন্টের মনোনয়ন আদায়ের আলোচনায় রয়েছেন জেলার চার নেতা।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান মরমি কবি হাসন রাজার নাতি দেওয়ান ইসকন্দর রাজা চৌধুরী (সুবক্ত রাজা)। তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি। তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
দেওয়ান ইসকন্দর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু আমরা ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক, তাই আমি এখানে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হতে আগ্রহী। সে কারণে মনোনায়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আমাদের দলের পক্ষ থেকে এই আসনটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে চাওয়া হবে।’
এদিকে সুনামগঞ্জ -০১ ( তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে যুক্তফ্রন্টের বিকল্পধারায় যোগদান করেছেন বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিক চৌধুরী। ২০০৮ সালে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। যদিও তিনি বিএনপির আগে বেশকিছু দিন এলডিপির রাজনীতি করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হতে চাইছেন।
সুনামগঞ্জ -৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ার আশংকায় দল ছেড়ে গণফোরামে যোগদান করেছেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী নজরুল ইসলাম। তিনি ২০০৫ সালে উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নজরুল ইসলাম এই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী হতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ -৫ ( ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে দলের মনোনয়ন না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভে দল ছেড়ে গণফোরামে যোগদান করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব করম আলী।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব করম আলী বলেন,‘ আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আছি। গত ৬ বছর হয় এই আসনে নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য কাজ করছি। ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামের সঙ্গে রয়েছি। আশা করছি এই আসনে ঐক্য ফ্রন্টের মনোনয়ন পাব।’
অধ্যাপক ডা. রফিক চৌধুরী বলেন,‘ ৫০ বছর ধরে মাঠের রাজনীতি করছি। ২০০৮’এ সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে নির্বাচন করে ৯৫ হাজার ভোট পেয়েছি। আমি জানি না কী জন্য আমার প্রতি অবিচার হয়। দায়িত্বশীল কেউ কিছু বলেনও না কী অপরাধ আমার। এজন্য আমি দল ত্যাগ করেছি। আমি বিকল্পধারায় যোগদান করেছি। আমি আশা করছি, আমার কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা আমার দলত্যাগের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নেবেন। আমি যদি নির্বাচন করি, তাঁরা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
সাবেক যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসাবে সিলেট এমসি কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। যুবলীগের সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সিলেট জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলাম। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলাম। ২০০৫ সালে মনোনয়নের তিন দিন আগে যুক্তরাজ্য থেকে এসে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে প্রায় ২১ হাজার ভোট পেয়েছি আমি। গণফোরামের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় সংসদে লড়তে চাই আমি। আমার আশা জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী আমাকে বঞ্চিত করবেন না।’