আশাকরি, শনিবার থেকে বাস চলবে: শাজাহান খান

সু.খবর ডেস্ক
ঘুরছে না বাসের চাকা। দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ। শুক্রবার ঢাকা থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। বাস চলেনি রাজধানীর ঢাকার অভ্যন্তরীণ পথেও। সড়ক যোগাযোগ যখন প্রায় অচল অবস্থা, তখন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আশাকরি শনিবার থেকে ফের বাস চালানো শুরু করতে পারেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ।
বাসের ধাক্কায় নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীমের আত্মার শান্তি কামনায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল মসজিদে শুক্রবার দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এ কথা বলে তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান বলেন, ধর্মঘট ডাকা হয়নি। নিরাপত্তার অভাবে মালিক-শ্রমিক দিনের বেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। রাতে বাস চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে শনিবার সকাল থেকেই বাস চলবে।
দোয়া মাহফিলে যোগ দেন সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌপরিবনমন্ত্রী শাজাহান খান, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এবং মীমের বাবা বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম।
নৌমন্ত্রী নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তাদের ভাই-বোনদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার কথাও জানান। ঢাকায় ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, এটা কোনো ধর্মঘট নয়। নিরাপত্তার অভাবে মালিক-শ্রমিকেরা দিনের বেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তবে রাতের বাস চলছে। আজও চলবে। শুক্রবার সড়কের যে পরিস্থিতি ছিল, একই পরিস্থিতি কাল থাকলে সকাল থেকেই বাস চলবে।
বাস চাপায় পিষ্ট হয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত কয়েকদিন ধরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করছেন। যেসব বাস চালকের লাইসেন্স নেই, তাদের মারপিট ও বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রেক্ষাপটেই সারাদেশে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখেন বাস মালিকরা।
গত রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসাপাতালের সামনে জাবালে নুর পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লায় নিহত হন আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীম নামের দুই শিক্ষার্থী। একে হত্যা আখ্যা দিয়ে বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের হাসিমুখে প্রতিক্রিয়ার কারণেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরদার হয়।
সূত্র : সমকাল