আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, আসুন হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে পুরো জানুয়ারি মাসই দেশ শীতে কাঁপবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মোতাবেক শুক্রবার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি কমার পর থেকেই শীত বাড়তে শুরু করে। এই শীত ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। কম-বেশি পুরো জানুয়ারি মাসই শৈত্যপ্রবাহের কবলে থাকবে দেশ। শীতকালে শীত থাকবে, এ অতিশয় স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রকৃতির এই স্বাভাবিক অথচ তীব্র প্রকাশটি কিছু মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উপস্থিত হয়। হাওরাঞ্চলে এখন বোরো চাষাবাদের ভর মৌসুম। হাওরে হাওরে চলছে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। কাকডাকা ভোর থেকেই কৃষকরা জমিতে কাজ শুরু করেন। এই প্রচ- শীতে তাদের কষ্ট বাড়বে। শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বাড়ে এই শীতে। অনেকেই এসময়ে কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ্য রাখেন না। এরা কর্মহীন থাকতে বাধ্য হন। তীব্র ঠা-া বয়স্ক ও শিশুদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতির এইসব উপচার নিয়েই বাঙালি জীবনের বসবাস। তবুও ভাল, এখানে তাপমাত্রা মাইনাসে চলে যায় না। বরফ পড়ে না। ঘর গরম করতে হিটার ব্যবহার করতে হয় না। পৃথিবীর শীত প্রধান অনেক দেশেই ঠা-া থেকে বাঁচতে প্রাযুক্তিক সহায়তা নিতে বাধ্য হতে হয়। আমাদের সে সামর্থ্য নেই। নেই বলেই সীমিত ক্ষমতা নিয়েও আমরা টিকে থাকতে পেরেছি। প্রকৃতি অন্তত তার ক্ষমতার সবটুকু দিয়ে আমাদের আক্রমণ করা থেকে নিবৃত্ত থেকেছে। প্রকৃতির এই আনুকূল্যটুকু না পেলে কষ্ট-দুর্ভোগের মাত্রা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠত তা ভাবলে গা শিউরে উঠে।
শীত আসলেই শীতবস্ত্র বিতরণের এক ধরনের ধুম পড়ে যায়। অন্তত গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদে সয়লাব থাকে। বিশেষ করে শীতবস্ত্র বিতরণে সংশ্লিষ্টদের যত না আগ্রহ তার চাইতে অনেক অনেক বেশি আগ্রহ দেখি সংবাদ প্রকাশ করার মধ্যে। এইসব ফটোসেশনের শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রকৃত শীতার্তরা উপকৃত হন খুব কমই। দাতাকূল শহরের আশ-পাশেই নিজেদের বিচরণ সীমাবদ্ধ রাখেন। তারা প্রত্যন্ত গ্রামে যেতে ভয় পান। অথচ মূল অস্বচ্ছল শীতার্তরা গ্রামে বসবাস করেন। ওখানে গেলে পিছনে ক্যামেরা পাওয়া যাবে না, সংবাদকর্মীও খবর পাবে না; তাই গ্রামে যেতে তাদের যত অনাগ্রহ। প্রকৃত পক্ষে যদি তারা শীতার্তদের কষ্ট হৃদয়ে ধারণ করতেন তাহলে লোকদেখানো ফটোসেশনের বদলে তারা চলে যেতেন ওইসব অঞ্চলে যেখানে সাধারণত সরকারি-সামাজিক সাহায্যগুলো তেমন করে পৌঁছায় না। ওই প্রত্যন্ত জনপদের মানুষ সাহায্য পাওয়ার জন্য যা করতে হয় সেই কৌশলও জানে না। ফলে তারা কিছুই পায় না। এই শীতে এদেরই কষ্ট হবে সীমাহীন। তাদের জন্য আমাদের অপরিসীম সমবেদনা।
যারা সমাজসেবীর প্রকৃত গৌরবে উদ্ভাসিত হতে চান, যাদের হৃদয়ে আর্ত-পীড়িত মানুষের জন্য রয়েছে সামান্য সহানুভূতি, তাঁদের আমরা অনুরোধ করি আপনারা শীতবস্ত্র নিয়ে গ্রামীণ জনপদে চলে যান। হয়তো এতে আপনাদের প্রচার-প্রচারণ্ াএকটু কম হবে। তাতে কি? এই কাজের মধ্যে দিয়ে মনের ভিতর যে গভীর শান্তি লাভ করবেন তার সামনে ওইসব প্রচার প্রচারণা কিছুই না। গ্রামের দরিদ্র কোনো বৃদ্ধ, কোনো অসুস্থ মা, কোনো শীতার্ত শিশুর গায়ে যখন আপনি একটি কম্বল জড়িয়ে দিবেন তখন তাদের মুখে দেখবেন ফুটে উঠেছে নির্মল হাসি। পীড়িত মুখে হাসি ফুটানোর চাইতে মহৎ কাজ আর কিছু নাই। ওই হাসিটুকুই আপনাকে এনে দিবে গভীর তৃপ্তি। আপনার সমাজসেবী পরিচয়ও মহিমান্বিত হয়ে উঠবে এতে করে।
আসুন তাই হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শীত নিবারণে। সামর্থ্যবানদের সামাজিক উদ্যোগ আরও প্রসারিত হোক এই আমাদের কামনা।