আসুন সচেতনতায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ি

রোকেস লেইস
প্রতিদিন প্রতিটি বাড়িতে গৃহস্থালি উচ্ছিষ্ট হবেই। উচ্ছিষ্ট আবার দুই ধরনেরÑ পচনশীল বা বিনাশী আবার অবিনাশী বা পচনহীন। এই উচ্ছিষ্ট ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে যত্রতত্র ফেলে দেয়া থেকে মানুষ বেরিয়ে আসবে।
শহরে দু-একটি স্থানে পৌর কর্তৃপক্ষের দেয়া পাত্র/কনটেইনার থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার হতে দেখা যায় না। কাক, কুকুরের টানাটানিতে আবর্জনা আশপাশে ছড়ায়, সাথে ছড়ায় দুর্গন্ধও, তব্ওু মন্দের ভালো এ ব্যবস্থাটি। প্রতিটি পাড়ায় পাত্র/ কনটেইনার এর ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আবার, নিয়মিতভাবে সেগুলো থেকে আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ঘরে ঘরে জানিয়ে দিতে হবে, ময়লা/ আবর্জনা যাতে নির্দিষ্ট স্থানে সকলে ফেলেন। সাথে শিখিয়ে দিতে হবে পচনশীল দ্রব্যাদি এবং পচনহীন দ্রব্যাদি শুরুতেই আলাদা করে নিলে এবং পৃথকভাবে ফেললে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুবিধা হবে, দুই ধরনের আবর্জনা আলাদাভাবে সংগ্রহ ও পৃথক স্থানে ফেলে দেয়ায়।
পচনশীল দ্রব্যাদি জনবসতি থেকে দুরবর্তী কোনো ভাগাড় বা গর্ত মতোন স্থান বা জলমগ্ন ডোবায় ফেললে দিন কয়েক এর মধ্যে তা পঁচে গিয়ে মাটি হয়ে যাবে। এইভাবে, একাধিক ডোবা বা জলাশয় থাকবে যাতে চক্রাকারে আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা থাকবে। ডোবাগুলো ভরে উঠলে এবং আবর্জনা পঁচে মাটি হয়ে গেলে, সেগুলো খনন করে উঠিয়ে নিয়ে গর্ত বা ডোবা পুনঃব্যবহার উপযোগী করে নিতে হবে। ঐ উঠানো মাটি সার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে নির্দ্বিধায়।
পচনহীন দ্রব্যাদি যেমন টিনের কনটেইনার, কাঁচের বোতল, প্লাস্টিকের-বোতল-ব্যাগ-অন্যান্য সামগ্রী কোনো নির্দিষ্ট খোলা স্থানে জড়ো করে রাখা যায়। বর্তমান সময়ে এই অপচনশীল দ্রব্য আবার কেউ কেউ সংগ্রহ করে যথাযথ প্রক্রিয়া বা পুনঃপ্রক্রিয়া দ্বারা ব্যবহার উপযোগী করছেন। ঐ সমস্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে প্রথম থেকেই দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে পৃথকীকরণ ও সংগ্রহের।
গণসচেতনতা অত্যন্ত জরুরী এবং প্রয়োজন, শহরে যে ক’টি ড্রেন আছে তা যাতে যথাযথ ব্যবহার হয়। ড্রেন তো শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশনের জন্য। কিন্তু, অত্যন্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করা যায় ; সর্বপ্রকার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ড্রেনে। সচেতন ও অসচেতন নির্বিশেষে সকলেই ফেলছেন। লক্ষ টাকা খরচ করে টাইলস বসিয়ে বাড়িতে ল্যাট্রিন তৈরি করে টাংকি না করে পাইপ দিয়ে দিয়েছেন পৌর-ড্রেনে, বলিহারি তাদের সচেতনতা, এদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ড্রেনগুলোতে মাঝে মাঝে পোড়া মবিল ঢেলে দিলেই, ঐ ড্রেনে কখনোই মশার আবাস হবে না। পোড়া মবিল যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে যা সংগ্রহ করে ড্রেনে ফেলার ব্যবস্থাটুকু করতে পারলে মশা এবং দুর্গন্ধ মুক্ত থাকবে ড্রেনের পানি।
ছোট্ট ছিমছাম দৃষ্টিনন্দন শহরে যথাযথ নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা গেলে অল্প দিনে অবশ্যই পাওয়া যাবে সুফল, শহর হয়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন।
এই চলমান প্রক্রিয়ায় যিনি বা যারাই সম্পৃক্ত হতে ব্যর্থ হবেন বা আদৌ হতে চাইবেন না তাদের জন্য সর্বশেষ ব্যবস্থা হবে আইনি প্রক্রিয়া।
আসুন আজ থেকেই ছোট্ট শিশুটিকে শিখিয়ে তুলি নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলতে হয়। ঘর,পরিবার থেকে পরিচ্ছন্নতা শিখে বড়ো হওয়া শিশুটি হয়ে উঠুক আগামীর পরিবেশবান্ধব সুফলভোগী নাগরিক।
০২০৮১৯
লেখক: সিনিয়র আইনজীবী ও কবি