আহসানমারায় হয়ে উঠছে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
সুনামগঞ্জের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র সড়ক সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক। এইসড়কের আহসানমারা অংশ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের আহসানমারায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সড়কে চলাচলকারীরা। বন্যায় সড়কের একপাশ ভেঙে গেলে বিপদ এড়াতে অস্থায়ীভাবে দেওয়া হয়েছিলো বালির বস্তা। কিছুটা রক্ষাও হয়েছিলো। কয়েকদিন হয় এসব বালির বস্তাও দেখা যাচ্ছে না। যানবাহন চালকদের সতর্ক করে দেবার এই বস্তাগুলোও কে বা কারা নিয়ে গেছে। যে ক’টা বস্তা আছে, তাও অপ্রতুল। গাড়ির চাকা উপর দিয়ে যাওয়ার কারণে ফেঁটে গেছে বস্তা।
আহসানমারা সেতুর পশ্চিমপাড়ের উত্তর দিকে দেখার হাওরের অবস্থান। জেলার অন্যতম বৃহৎ এই হাওরের প্রবল ঢেউয়ে ১শ’ ফুট অংশে নীচের মাটি সরে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে, সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি ও পরিবহন শ্রমিকেরা।
সুনামগঞ্জ জেলায় প্রবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির এই অংশ বন্যার সময় প্রবল ঢেউয়ে ভেঙেছিলো। এরপর ক্রমান্বয়ে ভাঙতে ভাঙতে সড়কের পাকা অংশের ৪-৫ ফুট গর্তের মতো ভেতরে ঢুকে গেছে। যানবাহন এর উপর দিয়ে গেলে ঘটতে পারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে যেসব বালির বস্তা দেওয়া হয়েছিলো, তাও এখন আর নেই। দিনে বা রাতে অজানা কোন চালক এ পথ দিয়ে আসলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় যুবক মনির উদ্দিন বলেন, বন্যার সময় রাস্তা ভেঙেছিলো। নিচ দিয়ে গর্ত হয়ে অনেকটা ভিতরে চলে গেছে। কোনো ট্রাক, বাস বা যেকোনো ধরণের যানবাহন এ পাশ দিয়ে গেলে নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে। দ্রুত এ জায়গাটি সংস্কার করা দরকার। কয়েকদিন বালির বস্তা থাকায় কোনো গাড়ি এপাশে আসে নি। কে বা কারা বালি ভর্তি বস্তাগুলোও নিয়ে গেছে। বিপদ আরো বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস সড়ক উপ-কমিটির কার্যকরি সভাপতি আরিফ আহমদ বলেন, আহসানমারা সেতুর পশ্চিমপাড়ের উত্তরাংশের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তার ভেতর দিয়ে ভেঙে গেছে। নিচে মাটি না থাকায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা। এ জায়গাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। শুধু এই জায়গাই নয়, নীলপুর বাজার থেকে রাবারবাড়ি এলাকার সামনের অংশসহ বেশ কিছু জায়গা আছে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জায়গারও সংস্কার চাই।
এপথে চলাচলকারী সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা ডা. অতনু ভট্টাচার্য বললেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অবহেলা করলে, বড় বিপদ হতে পারে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. মুস্তাফিজুর রহমান বললেন, আপাতত আবার বস্তা দিয়ে সতর্ক করা হবে। এই সড়কের এমন অবস্থা জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে কাজ করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা তৎপর। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে কাজ হবে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।