আ.লীগের তৃণমূলের সম্মেলন ভিন্ন অবস্থান বিবদমান দুই পক্ষের

বিশেষ প্রতিনিধি
তৃণমূলের সম্মেলন ও কমিটি গঠন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের। জেলার সকল ইউনিটের সম্মেলন ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়ায় নেতারা এমন মনোভাব জানিয়েছেন। দলের একপক্ষ বলেছেন, ১২ উপজেলার মধ্যে ১০ উপজেলায় সম্মেলন হবে, আরেকপক্ষ বলেছেন ১২ টিতেই নতুন কমিটি করতে হবে। একপক্ষ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বহাল রেখে সম্মেলন করতে চায়, আরেক পক্ষ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি মানতেই রাজি নয়।
২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি মতিউর রহমান এবং সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করে জেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে দায়িত্বশীলরা সংগঠনের জেলা নেতাদের এই নির্দেশ দেন।
গত ৬ মে সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা, ছাতক পৌরসভা, দিরাই ও শাল্লায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করে দিয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগ। এই কমিটিগুলো শুরু থেকেই মেনে নেয় নি সংগঠনের একপক্ষ।
ছাতকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ (আবুল কালাম চৌধুরী সমর্থক) শুরু থেকেই এই কমিটি মেনে নেয় নি। তারা সদ্য প্রয়াত আবরু মিয়া তালুকদারকে আহ্বায়ক করে করা কমিটির নেতৃত্বে সম্মেলন করার পক্ষে। একইভাবে ছাতক পৌরসভায় আব্দুল ওয়াহিদ মজনুকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছিল। এই কমিটিও মেনে নেন নি আবুল কালাম চৌধুরী সমর্থকরা। তারা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে সম্মেলন করতে চায়।
দিরাইয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল প্রবীণ নেতা আলতাব উদ্দিনকে। দিরাই পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়ার সমর্থকরা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে সম্মেলন করার পক্ষে। শাল্লায় এই নিয়ে বিতর্ক কম রয়েছে।
দোয়ারাবাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী বীর প্রতীককে। সংগঠনের অপরাংশ এই কমিটি মানতে নারাজ, তারা ফরিদ আহমেদ তারেক’এর নেতৃত্বাধীন কমিটির আয়োজনে সম্মেলন করার পক্ষে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মোবারক হোসেনকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সংগঠনের একাংশ শুরু থেকেই এই কমিটির বিরোধীতা করে আসছে। এই অংশ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে সম্মেলন করতে আগ্রহী।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ১২ উপজেলার মধ্যে ইতিমধ্যে ২ টিতে কমিটি গঠনের কাজ শেষ, বিশ^ম্ভরপুর ও মধ্যনগরে সম্মেলন করে কমিটি হয়েছে, অন্য ইউনিটগুলোর মধ্যে যেখানে কমিটি নেই, সেখানে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির মাধ্যমে সম্মেলন করা হবে, যেখানে কমিটি আছে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও হয়েছে, সেখানে দুই কমিটি সমন্বয় করে সম্মেলন করবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, মধ্যনগর ও বিশ^ম্ভরপুরের কমিটি জেলা কমিটিতে অনুমোদিত নয়, গঠনতন্ত্র বা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সম্মেলনস্থলে কমিটি ঘোষণা না হলে জেলা কমিটি সভা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি দেবার কথা। এসব কমিটি নিয়ে কোন আলোচনাই হয় নি, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই কমিটি দিয়েছেন। সামনের সম্মেলন স্ব স্ব উপজেলা কমিটি আয়োজন করবে, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হবে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বাতিল করা হয়েছে, গঠনতন্ত্রে এগুলোর কোন বৈধতা নেই।