- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

আ.লীগের মনোননয়ন পেতে শেষ মুহূর্তেও নাম বদলের চেষ্টা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সংগঠনের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে সিলেট বিভাগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে। দলের একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
তৃণমূল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য তালিকা জেলা কমিটিতে আসার পর জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তালিকা গত বুধবার সংগঠনের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল থেকে দেওয়া অনেকের নাম কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে না দেবারও অভিযোগ ওঠেছে। আবার শেষ মূহূর্তে অনেকের নাম হাতে লিখেও কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ গত ১০ অক্টোবর প্রার্থী বাছাই করতে জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠকে গঠনতন্ত্র মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব রেজুলেশন আকারে উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। মোহনপুর ইউনিয়নে গত ইউপি নির্বাচনে দেড়শ ভোটে পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঈনুল হকের নাম তালিকায় প্রথমে দিয়ে তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলায় পাঠায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী লীগ মঈনুল হকসহ আরো তিন প্রার্থীর নাম জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠায়। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া তালিকায় মঈনুল হকের নাম নেই।
আবার শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে তিন জনের নাম গেছে উপজেলায় ও জেলায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা হয়েছে প্রথমে একজনের নাম, পরে হাতে লিখে আরও কিছু নাম যুক্ত হয়েছে।
শিমুলবাঁক ইউনিয়নের জমা দেওয়া তালিকায়ও প্রথমে দুই জনের নাম ছিলো, পরে হাতে লিখে রাসেল আহমদের নাম যুক্ত হয়েছে। দরগাপাশা ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেবার সময় তিনজনের নাম ছিলো পরে হাতে লিখে অ্যাডভোকেট আলী শাহানের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের সম্ভাব্য তালিকায় তৃণমূল ও উপজেলা থেকে অন্যান্যের মধ্যে এনামুল কবির ও আসাদুর রহমান আসাদের নাম গেলেও কেন্দ্রে জমা দেওয়া তালিকায় এনামুল কবিরের নাম হাতে লিখে জমা হয়েছে। পশ্চিম পাগলায়ও সুরঞ্জিত টপ্পার নাম হাতে লিখে যুক্ত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ও কাঠইড় ইউনিয়নে হাতে লিখে পরে দুটি নাম যুক্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বললেন, তৃণমূলের বড় তালিকা উপজেলা কমিটি কিছু ছোট করেছে, আবার জেলা কমিটিও কিছু ছোট করে তালিকা কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জমা দিয়েছে। হাতে লিখে কিছু নাম জমা দেবার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, জমা দেবার সময় জরুরি কিছু নাম হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে বলে জানি আমি। সুনামগঞ্জ সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চাইতে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে শৃঙ্খলা বেশি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দলের একটি সূত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে জেলা আওয়ামী লীগের জমা দেওয়া তালিকার বাইরেও কেউ কেউ দলীয় ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। আবার তৃণমূলের তালিকা নিয়েও অনেকে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

  • [১]