আ.লীগের সাত প্রার্থীর নাম প্রস্তাব, বিএনপির অনিশ্চিত

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
বহুল প্রতিক্ষিত জগন্নাথপুরের মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর পরই প্রার্থী সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে সাত জন প্রার্থীর নাম প্রস্তাবে এসেছে। যেসব প্রার্থীর নাম প্রস্তাবে এসেছে তাঁরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মাস্টার, কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শেরিন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, মিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, সিনিয়র সহসভাপতি জমির উদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক বাবুল মিয়া। এছাড়াও সভায় উপস্থিত হয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম দোয়েল চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশি বলে প্রস্তাব করেন।
মিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সিনিয়র সহসভাপতি মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সুত্রধর বীরেন্দ্র, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম, মিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক বাবুল মিয়া, যুবলীগ নেতা ছায়াদুর রহমান প্রমুখ।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাতজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছেন। এরমধ্যে জনমত ও যোগ্যতা যাচাই বাছাই করে সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির নিকট তিনজন প্রার্থীর নাম প্রেরণ করা হতে পারে।
এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নির্বাচন হতে চললেও বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত। তবে বিএনপি থেকে কয়েকজন প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। প্রচার প্রচারণাও চালাচ্ছেন তাঁরা। বিএনপি থেকে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর নুর, সাধারণ সম্পাদক আকলুল করিম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জুবেদ আলী লখন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন নির্বাচনে কয়েকজন প্রবাসি প্রার্থীও অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য প্রবাসি প্রার্থীরা দেশে ফেরার প্রস্তুুতি চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হোরায়রা ছাদ মাষ্টার বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে দলীয় কোন সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে আমরা আশা আশাবাদি, মিরপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কারণ রংপুরের জাতীয় সংসদ উপ নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেজন্য মনে হচ্ছে এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মিরপর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর, বাছাই ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২২ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ১৪ অক্টোবর। ২০০৩ সালে সর্বশেষ মিরপুর ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর মামলা জটিলতায় উচ্চ আদালতের আদেশে আটকে যায় নির্বাচনী কার্যক্রম। সম্প্রতি মামলাটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় নিবার্চনী তফশিল ঘোষণা করা হয়।