আ.লীগ প্রার্থীর সঙ্গে মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমন্বয় হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমন্বয় হয়নি। এ কারণে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এখনো প্রচারণায় নামেননি এই আসনের শক্তিশালী ৮ আওয়ামী লীগ নেতা। মনোনয়ন প্রদানের আগে এঁরা গণভবনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে নালিশও করেছিলেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার, তাহিরপুরের বাসিন্দা সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার, সাবেক যুগ্মসচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল হাসান চৌধুরী, দলীয় নেতা ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবলীগ নেতা শক্তিপদ রায়।
এই ৮ জনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহ্রিয়ার বুধবার জামালগঞ্জে এবং বৃহস্পতিবার তাহিরপুরে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা করে নৌকায় ভোট দেবার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম গত ১১ নভেম্বর সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সভা করে বলেছেন,‘আত্মঘাতি কোন কিছুই করা যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আলাদাভাবে নৌকার প্রচারণা চালাবো।’
এই দুই প্রার্থী ছাড়া মনোনয়ন বঞ্চিত অন্যদের কেউ এখনো নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নামেননি। কোন সভা-সমাবেশেও অংশ নেননি। তাঁদের অনুসারিরাও নিস্ক্রিয় রয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেন,‘মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও শক্তিপদ রায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, তাঁরা নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাতে দুয়েক দিনের মধ্যেই এলাকায় আসবেন। অন্য কেউ প্রচারণায় নামেননি, এমনকি তাঁদের অনুসারিরাও নিস্ক্রিয়। শুনেছি বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গেও কারো কারো যোগাযোগ আছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম বলেন,‘সংসদ সদস্য মনোনয়ন পেয়ে একদিন ফোন দিয়েছিলেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। যোগাযোগ না করলেও নৌকার পক্ষে কাজ করবো আমরা। ১১ ডিসেম্বর আমার সমর্থকদের নিয়ে সভা করে জানিয়ে দিয়েছি আমরা আলাদাভাবে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করবো।’ প্রার্থীর সঙ্গে গণসংযোগে থাকছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম শামীম বলেন,‘আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করার উদ্যোগ প্রার্থীকেই নিতে হবে।’
অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে বলেন,‘আমি দুই দিন তাহিরপুরে গিয়েছি। আমাকে সিলেট-১,৩ ও ৪ আসনে প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার সেখানে থাকতে হবে।’
বিনয় ভূষণ তালুকদার বললেন,‘আমি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। এলাকার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি।’
মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক এর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা যায়নি।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ এখনো প্রচারণায় নামেননি। আমি আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যেই নামবেন তাঁরা।’