আ.লীগ মাঠে, বিএনপি ঘরে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সুনামগঞ্জ-৩ এর (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুুনামগঞ্জ) রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মাঠে যতটা তৎপরতা দেখাচ্ছে বিএনপি ততটাই ঘরে বসে কেবল কেন্দ্রীয় সিন্ধান্তের দিকে চেয়ে আছে।
দুই উপজেলার ভোট সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ভোটার প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ও জগন্নাথপুরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য সকল প্রার্থীই এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, খোঁজ খবর নিচ্ছেন নিয়মিত।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ৭ জনই প্রকাশ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের কান্ডারী এম এ মান্নানের পক্ষে উঠান বৈঠক শুরু করছেন। এছাড়াও গোষ্ঠীগত সকল বিভেদ মিটিয়ে সকলকে এক সারিতে দাঁড় করবার প্রত্যয়ে কাজ করছেন তাঁরা।
তবে পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আমিনুর রশিদ আমিন চান তাদের দলীয় ব্যক্তিকেই যেনো ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়।
জাতীয়তাবাদী সমর্থনের ভোটগুলো একটি বাক্সবন্দি হওয়া প্রয়োজন, এরকম আকাক্সক্ষা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ সকল নেতাকর্মীর। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক শুরু করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্য গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে সব ধরণের প্রস্তুতি।
অপরদিকে, একক প্রার্থীতার প্রশ্নে একাট্টা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। শরিক দলের বিষয় এলেই প্রেক্ষাপট যেনো একেবারেই অচেনা হয়ে যায়। বিএনপির বহুদিনের দাবি এই আসনে যেন দলের ত্যাগী কোনো নেতাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তাহলেই জাতীয়তাবাদে আদর্শে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দিবে। ‘হাওলাত’ করা প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে এ বছরও ধানের শীষের ভরাডুবি হওয়ার আশংকা করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, বিএনপির প্রার্থীতার দাবী করলেও এখন পর্যন্ত মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একথা বলার মত কোনো দলীয় লোক মাঠে কাজ করছেন না দুই উপজেলার কোনোটিতেই।
সে তুলনায় জমিয়তের কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব সাবেক এমপি অ্যাড. মাও. শাহিনূর পাশা চৌধুরী মাঝে মধ্যে এলাকায় আসছেন। মানুষের সাথে গণসংযোগ করবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফরুক আহমদ নিজেকে আগামী উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছেন বলে জানিয়েছেন।
বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ মান্নান সকল জনসভা, উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে নৌকায় ভোট দেওয়ার কথাই বলছেন। প্রার্থী হওয়ার ব্যপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপি জোটের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মাও. শাহিনূর পাশা চৌধুরী বলেন, ‘আমি এর আগে চারটি সংসদ নির্বাচন করেছি। আমি বুঝি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিভাবে ভোট আনতে হয়। মানুষ আমাকে খুব ভালোবাসে। এ নির্বাচনে আমি আমার পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবো।’
বিএনপির নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন না, এমন অভিযোগ প্রসংগে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখি। নির্বাচনে সবাই আমার সাথে থাকবে। ধানের শীষ আমিই পাবো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকা প্রতীক নিয়ে যেই আুসক না কেন আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।’
বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমাকে চিনেন। আমাকে ¯েœহ করেন। তিনি বুঝেন। আর বুঝেন বলেই আমাকে দুইটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমিই নৌকার প্রার্থী হব। সাধারণ মানুষ যদি উন্নয়ন বুঝেন তাহলে আরেকবার আমাকে সংসদে পাঠাবেন।’