ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প.প. কেন্দ্র’র জায়গা আছে, ভবন নেই

আকরাম উদ্দিন
স্বাস্থ্যসেবা সংকটে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। সুষ্ঠু সেবা পেতে প্রতিদিন রোগীরা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন এলাকার দরিদ্র লোকজন।
ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। তাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি জানান, এই ইউনিয়নে রয়েছে ৩৪টি গ্রাম। ইউনিয়ন এলাকা জুড়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ২০ বছর আগে থেকে ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ৪৫ শতাংশ জায়গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ভবন নির্মাণের জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এই ভবনটি এখনও নির্মাণ হচ্ছে না। এই কারণে সুষ্ঠু স্বাস্থ্য সেবা পেতে সংকটে পড়েছেন তাঁরা। ইউনিয়নের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে হচ্ছে তাঁদের। তাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি ইউনিয়নবাসীর।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে ধনপুর বাজারের সন্নিকটে ৫০ শতাংশ জায়গার উপর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে। ওই সময় ইউপি কার্যালয়ের পাশে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আরও ৪৫ শতাংশ জায়গা রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেই।
এই ইউনিয়নের পূর্বে সলুকাবাদ ইউনিয়ন, পশ্চিমে বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন, উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে পলাশ ইউনিয়ন।
ধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার ও স্বজন মিয়া বলেন,‘আমাদের ধনপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র না থাকায় পরিবারের রোগীদের নিয়ে মারাত্মক সমস্যায় আছি। চিকিৎসা করাতে যেতে হয় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে। এই সমস্যা সমাধানে আমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চাই।’
ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা মহি উদ্দিন (৭৫) ও মফিজ উদ্দিন (৭০) বলেন,‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হবে, হচ্ছে বলে আজ ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। আমাদের বয়স হয়েছে, কেন্দ্র হলে দেখে যেতে পারব কি না তা জানি না। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দেখে যেতে পারলে মনে দু:খ থাকবে না।’
একই গ্রামের আমেনা খাতুন (৭০) বলেন,‘বয়স হলে শরীরে নানা রোগে বাসা বাঁধে। এই বয়সে দূরের হাসপাতালে গিয়ে বার বার চিকিৎসা নিতে পারি না। নিজের ইউনিয়নে হাসপাতাল থাকলে চিকিৎসা নিতে সমস্যা হতো না। আমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চাই।’
শরীফগঞ্জ গ্রামের মো. হান্নান মিয়া বলেন,‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র না থাকায় আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিপাকে আছি। যেকোনো সময় রোগীর জরুরি চিকিৎসায় যেতে হয় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় না হয় জেলা সদর হাসপাতালে।’
কাইতকোনা গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন,‘ধনপুর গ্রামে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হবে এ কথা শুনে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। জায়গা থাকা সত্ত্বেও ভবন হচ্ছে না। পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ভবন নির্মাণ হলে ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে।’
গামাইরতলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুশ শহীদ বলেন,‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হবে, এ নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখে আসছি। কিন্তু বাস্তবে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না।’
ধনপুর ইউপি সদস্য ইউনুস আলী বলেন,‘আমাদের এলাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়া জরুরি প্রয়োজন।’
ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী কালাচান বলেন,‘আমার ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা ঘেঁষে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪৫ শতাংশ জায়গা রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের অপেক্ষায় আছি। ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এই ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ জরুরি প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন,‘স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ভবন নির্মাণের জন্য কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণ বিষয়টি এই প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনায় আছে। যে কোনো সময় দরপত্র আহ্বান হতে পারে বলে জানা গেছে।’
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন,‘বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’র ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন হয়েছে। অপারেশন প্লান পাশ করা আছে। আশাকরি কিছুদিনের মধ্যে বরাদ্দ আসতে পারে। বরাদ্দ আসলেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’