ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যে দ্ব›দ্ব, ধর্মপাশায় ভিজিএফের চাল পায়নি ৬০ কার্ডধারী

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় ইউপি চেয়ারম্যান ও এক সদস্যের মধ্যে দ্ব›েদ্বর জেরে ভিজিএফের চাল পায়নি ৬০ জন কার্ডধারী। ফলে ঈদের আগে চাল না পাওয়ায় কার্ডধারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কার্ডধারীরা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শুক্রবার ওই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ভিজিএফের চাল বিতরণকালে ৬০ জন কার্ডধারী চাল নিতে গেলে তাদের ফিরিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৩০ জন হতদরিদ্রের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফের ১৯ মেট্রিক টন ৯৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়। তখন থেকে ২নং ওয়ার্ডের ৬০ জন কার্ডধারী চালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ কিছুক্ষণ পরে দিচ্ছি বলে বলে সময় ক্ষ্যাপন করতে থাকে এবং কার্ডধারীদের জানায় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউনুছ মিয়ার সাথে তার (চেয়ারম্যান) দ্ব›দ্ব থাকায় চাল দেওয়া যাবেনা। পরে চাল না পেয়ে কার্ডধারীরা বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স থেকে বাড়ি ফিরে যায়। বিষয়টি ইউপি সদস্য ইউনুছ মিয়া মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়।
ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামের মো. পন্ডিত আলী নামের এক কার্ডধারী জানান, ওই ইউপি সদস্যের সাথে দ্ব›দ্ব থাকায় তাদের (কার্ডধারী) চাল দেয়নি চেয়ারম্যান।
২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘বিগত দিনে চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে কিছুটা দ্ব›দ্ব রয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের কার্ডধারীরা চাল আনতে গেলে আমার সাথে দ্ব›দ্ব রয়েছে তাই তাদেরকে (কার্ডধারী) চাল দেওয়া যাবেনা বলে ফিরিয়ে দেন চেয়ারম্যান। বিষয়টি মুঠোফোনে ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’
চাল বিতরণে তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ফরায়জি বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের কী যেন দ্ব›দ্ব রয়েছে। আমার এক আত্মীয় অসুস্থ্য থাকায় আমি চাল বিতরণে থাকতে পারিনি। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলবো।’
ইউপি চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।