ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের ২ বছরের কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ছাতকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা শেষে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানসহ অন্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাতজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বুধবার এই রায় দেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল, উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের আবুল হাছনাত, গহরপুর গ্রামের বাবুল মিয়া ও জসিম উদ্দিন, কালিপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ূম ও আবুল খায়ের, সাতগাঁও গ্রামের শাহিন মিয়া। রায় ঘোষণার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল ছাড়া অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ আগস্ট উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা শেষে উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে বের হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল ও অন্য আসামিরা মিলে উপজেলার খুরমা উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট সাহেলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বিল্লাল আহমদ। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মামলার রায় ঘোষণা এবং সাত আসামির দুই বছরের কারাদ-ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পিপি খায়রুল কবির রুমেন।
প্রসঙ্গত, ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগে গত ১৫ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বরখাস্ত হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেলের ইউনিয়নের চাউলির হাওরের ফসল রক্ষায় এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে কয়েকটি বাঁধ নির্মাণের কাজ হয়েছে। এসব বাঁধে কম কাজ করে তিনি বেশি বিল দেওয়ার জন্য দাবি করে আসছিলেন। গত ১৭ মে দুপুরে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান ওই ইউপি চেয়ারম্যান। এ সময় ইউএনও নাছির উল্লাহ্ খানের কক্ষে ঢুকে তিনি বাঁধের কাজের বিলের বিষয়ে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি ইউএনও এবং ওই কক্ষে থাকা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও তাদের লাঞ্ছিত করেন। প্রায় ৫০ মিনিট তিনি ইউএনওর কক্ষে অবস্থান করেন এবং সবকিছু তার মুঠোফোনের মাধ্যমে ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করেন।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।