ইজিবাইক বন্ধ করার পর অন্যান্য বিকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করতে হবে

উচ্চ আদালতের নির্দেশে গতকাল (রবিবার) থেকে পৌর অঞ্চলে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইজিবাইক চলাচল বন্ধের সাথে আদালতের নির্দেশনামা জড়িত থাকায় এটি অবশ্যই পালনযোগ্য ছিল এবং পৌর কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ মান্য করে একটি ভাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি ঠিক, ইজিবাইকগুলো বিআরটিএ’র নির্ধারিত মানদ- অনুসারে যান্ত্রিক যানবাহনের কোন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত নয়। এজন্য ইজিবাইকের কোন নিবন্ধন বিআরটিএ থেকে দেয়া হয় না। এর চালকরাও বিআরটিএ’র সনদপ্রাপ্ত নয়। অথচ যেকোন বিবেচনায় ইজিবাইকগুলো একটি যন্ত্রচালিত যান। এখন কেন বিআরটিএ ইজিবাইককে যানবাহন হিসাবে তালিকাভূক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি এবং কেনই বা এমন একটি অবৈধ যানবাহনে বাজার সয়লাব হলো; এগুলো আইনি প্রশ্ন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এইসব বিষয়াদি আদালতের বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক। ইজিবাইক সংশ্লিষ্ট চালক-মালিক সমিতিগুলোকেই এই উদ্যোগ নিতে হবে। আদালতের ভিন্নরূপ কোন নির্দেশনা ব্যতিত এই যানকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেয়ার আর কোন সুযোগ নেই।
তবে ইজিবাইক বন্ধ হওয়ার কারণে শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যে ভীষণভাবে পর্যুদস্থ হয়েছে সেটি রবিবারের যাত্রী দুর্ভোগ থেকে বেশ বুঝা গিয়েছে। স্বল্প পাল্লার দূরত্ব অতিক্রম করতে যাত্রীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ ছিল সারাদিন। স্বল্পসংখ্যক রিক্সা বা সিনএনজি এই যাত্রী চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও পৌর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করার প্রেক্ষিতে যাত্রীদের সুবিধার্থে শহরে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিএনজি ও লেগুনা সড়কে দেয়া হবে এবং এই যানগুলো যাত্রীদের নিকট থেকে ইজিবাইকের সমান ভাড়া আদায় করবে। কিন্তু রবিবার বিভিন্ন যাত্রীদের যে অভিজ্ঞতার খবর পাওয়া গেছে তা সুখকর নয়। সুযোগ পেয়ে রিক্সাওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং যাত্রীদের চাহিদা মাফিক গন্তব্যে যেতে রাজী না হওয়া ছিল রবিবারের সাধারণ দৃশ্য। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রুটে যে স্বল্পসংখ্যক সিএনজি সার্ভিস দিয়েছে তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং সিএনজিগুলোও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে। বিভিন্ন গন্তব্যে অনেক মানুষকে কষ্ট করে হেঁটে যাতায়াত করতে দেখা গেছে রবিবার। সামনের দিনগুলোতে এই অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। ভাড়া নিয়ে রিক্সাচালকদের সাথে বচসা, ঝগড়া এমনকি হাতাহাতি হওয়া একসময় ছিল শহরের নিত্যচিত্র যা ইজিবাইক আসার পর কমে গিয়েছিল। এখন আবারও সেই অবস্থা ফিরে আসবে বলে শহরবাসী মনে করেন। স্বল্প দূরত্বের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থাকে মানুষের জন্য সহজ ও দুর্ভোগমুক্ত করতে তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তা করতে হবে।
আমরা মনে করি, ইজিবাইক বন্ধের প্রেক্ষিতে পৌর মেয়র যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যেমন- পর্যাপ্ত সিএনজি ও লেগুনা রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং ইজিবাইকের সমান ভাড়া নেয়া; এগুলো ছিল সাধারণ মানুষের জন্য ভাল সিদ্ধান্ত। পৌর মেয়রের এই উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে সিএনজি ও লেগুনা মালিক শ্রমিক সমিতিসহ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা দরকার। তবে যেকোন পুরাতন ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে নতুন ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে কিছু সময় লাগে। আমরা মনে করি অবস্থা স্বাভাবিক বা সহনীয় করতে কিছুটা সময় লাগবে। সব কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের বর্তমান দুর্ভোগ অচিরেই কেটে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখছি।