ইতিবাচক ভাবনার অগ্রপথিক মানিক লাল রায়

সাজাউর রহমান
একটি ছোট্ট ছিদ্র বড় একটি জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে। ঠিক তেমনি একটি জীবনবোধে যদি ভুল থাকে, তাহলে সব থাকার পরেও একজন মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনের-অনেক ছোটো-খাটো বিষয়ে, যে কোন বড় সমস্যাকে আমরা মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি। যদি আমাদের দৃষ্টিরভঙ্গিটা সঠিক হয়, ইতিবাচক হয়।
মানিক স্যার আজীবন সঠিক ও মহৎ জীবনবোধের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছেÑ
“তোমার মুক্তি তুমিই আনবে
হতেই হবে শক্ত
মিত্র চিনে আনতে হবে
জনগণতন্ত্র”
মানিক লাল রায় এর জন্ম ২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৯ খ্রি.। মৃত্যু: ২৬ শে জুলাই ২০১৯খ্রি. ।
জীবনের দর্শন সঠিক হলে আপনি রক্ষা পাবেন হোঁচট খাওয়া থেকে, বেঁচে যাবেন ভুলকরা থেকে।
ভারতের নামকরা সাহিত্যিক কীর্তন খেলা এক গল্পে লিখেছেনÑ
কেঁচোর মাত্র ৬৪টা ব্রেনসেল আছে। তাই নিয়ে, ঘর বানায়, খাবার সংগ্রহ করে, সঙ্গী খুঁজে নেয়, রাত্রের আধাঁরে আলো দেয় এবং অন্যান্য জীবের পথ দেখায়। আর আমরা জীবজগতের জটিলতম মস্তিষ্কের অধিকারী মানুষ লক্ষ লক্ষ মস্তিস্ক কোষ নিয়ে এর বেশি কী করি? দিনের শেষে নিজেকে যদি প্রশ্ন করি তাহলে এর চেয়ে বেশি কী উত্তর পাবো?
আনতনয়নে দাঁড়িয়ে বাধ্য হচ্ছি নিজেকে প্রশ্ন করতে- তুমি কী মাপের মানুষে হে? কতখানি মানুষ?
মানিক স্যার সারাক্ষণ মনের মধ্যে সেই দর্শন লালন করতেন। গত ২৬ শে জুলাই ২০১৯ খ্রি. তারিখে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ত্যাগের মহিমা ফুটে উঠেছে। তিনি সারা জীবনব্যাপী সুনামগঞ্জের গণমুখী শিক্ষা এবং রাজনীতির প্রসারে কাজ করে গেছেন।
আজকের আলোচনার- বিষয়টি একটু পরিষ্কার করে নিতে চাই সবার কাছে। সেটি হলো শুধু অফিস আদালতে যারা কাজ করেন সেই সব চাকুরীজীবী এবং ব্যবসায়ীরাই কিন্তু কাজ করেন না। কাজ করি আমরা সবাই।
ছোট্টশিশু যে লেগো দিয়ে খেলনা বানায়, একেক রকমের ঘর বানায়, সে কিন্তু তার কর্মঘন্টা পার করছে। সে সময় তার কর্ম হচ্ছে খেলা। খেলার মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কিছু বানানো।
রান্না যিনি করেন তিনি সবার খাওয়ার ব্যবস্থা করছেন, কত উত্তম সেবা তিনি দিচ্ছেন। তার মানে হচ্ছে এই কাজটার প্রতি তার ভালোবাসা আছে।
জুতা সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ বলে একটি প্রবাদ আছে বাংলাভাষায়। এর মানে হচ্ছে সব ক্ষেত্রের কাজে পারদর্শিতা। কাজের প্রতি প্রয়োজন ভালোবাসা। তবে লেগে থাকা ও মনোযোগ তখনই দেয়া সম্ভব যখন সে কাজটির প্রতি সম্মান, ভালোবাসা থাকে।
অধিকাংশ মানুষ তার কর্মজীবনে হতাশ কেন? কারণ সে মনে করে সে যে কাজটা করছে, এটা কোনো কাজ না।
আরেকজন যেটা করছে সেটা হচ্ছে কাজ। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে আব্দুল কালামের বাবা ছিলেন খেয়া নৌকার মাঝি। তিনি যদি মনে করতেন আমার বাবা মাঝি, আমিও নৌকা বাইবো তাহলে তিনি কি রকেটবিজ্ঞানী হতে পারতেন? রাষ্ট্রপতি হতে পারতেন? পারতেন না।
আসলে যে কাজটা আমরা পছন্দ করি, ভালোবাসি; সে কাজটাকে মনে করতে হবে জীবন।
জীবনের যারা দুশমন সে শত্রুদের পরাজিত করার অঙ্গীকারবদ্ধ জীবনের পাশাপাশি মানিকস্যার এসেছিলেন আমাদের গণমুখী শিক্ষা বিস্তারের এক অগ্রপথিক হয়ে, তোমার বিদায়ান্তে, তোমাকে সালাম, তোমাকে সালাম।
লেখক: শিক্ষক।