ইন্টারনেট সেবায় ত্রুটি, সুনামগঞ্জে ই-নথি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত

বিশেষ প্রতিনিধি
ইন্টারনেট সেবা সঠিকভাবে না পাওয়ায় সুনামগঞ্জের জেলা পর্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অফিসসহ সরকারি অফিসগুলোয় ই-নথি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সামিট গ্রপের সার্ভিস প্রদানকারীরা ঠিকভাবে সেবা দিচ্ছেন না। অন্যদিকে সার্ভিস প্রদানকারীরা বলছেন, ব্যবহারের ত্রুটির কারণে অনেকেই সেবা পাচ্ছেন না। সেবা প্রদানে তাদের কোন ত্রুটি নেই।
জানা যায়, সরকারি অফিসগুলোয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। সিলেটে এই প্রকল্পের ব্যা-উইথ সরবরাহকারী ঢাকার সামিট গ্রুপ এবং ফাইবার অ্যাট হোমস। তিন ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এরমধ্যে রয়েছে, বাংলা গভ.নেট, ইনফো সরকার-২ ও ইনফো সরকার-৩। বাংলা গভ.নেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য। এই সার্ভিস মোটামুটি ভালই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইনফো সরকার-২ সকল সরকারি অফিসের জন্য। এই সার্ভিস দায়সারা গোছের। এই সার্ভিস গ্রহিতারা ত্যক্ত-বিরক্ত। ইনফো সরকার-৩ এখনো ভালভাবে কাজ শুরু করে নি। এই সার্ভিস ইউনিয়ন পর্যায়ের জন্য।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান খান জানালেন, ১৫ দিন হয়, তিনি অফিসে ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন না। এভাবে মাঝে মধ্যেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একারণে ই-নথি কার্যক্রমে সমস্যা হয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে বিষয়টি জানিয়েছেন। আগামী রোববার জানানো হয়েছে সার্ভিস দিতে আসবেন সামিট গ্রুপের লোকজন।
সুনামগঞ্জ জেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার মো. নিজাম উদ্দিন জানালেন, সামিট গ্রুপের সার্ভিস প্রদানকারীদের কোন তদারকি নেই। তাঁরা ঠিকভাবে কথাও শুনে না। তাঁদেরকে মনিটরিংয়ের দায়িত্বও জেলা প্রশাসনের বা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেই। তাঁরা (সার্ভিস প্রদানকারীরা) কখন আসে, কখন যায়, কারো কাছে জবাবদিহিতা নেই। অন্যদিকে, ব্যবহারকারী’র অসচেতনতা, অদক্ষতা এবং অযতেœর কারণেও ডিজিটাল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, প্রায়ই বিভিন্ন অফিস থেকে ফোন পাই, তারা ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে না।
সামিট গ্রুপের হয়ে সুনামগঞ্জে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে সিলেটের সিলনেট বিল্ডার্স।
সিলনেট বিল্ডার্সের কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন দাবি করলেন, ব্যবহারে ত্রুটি এবং ভালো জানাশুনা না থাকায় অনেকে সমস্যায় পড়েন। আমরা সার্ভিস দিচ্ছি না বলা ঠিক হবে না। আমাদের জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই যাচ্ছি আমরা। এই বিষয়ে সরাসরি আমাদেরকে দায়ীও করা যাবে না। আমরা কাজ করছি সামিট গ্রুপের হয়ে। অভিযোগ থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
সামিট গ্রুপের সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ঝন্টু কুমার দাসের সঙ্গে কথা বললে, তিনি জানালেন, আমরা অভিযোগ পেলেই টিম পাঠাই। কিছু কিছু অফিসে রাউটার সমস্যা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা যাই না, তা সঠিক নয়। সুনামগঞ্জ প্রাণি সম্পদ অফিসে এর আগেও আমি সার্ভিস দিয়ে এসেছি।