ইভিএম’র ভোটে স্বস্তি-অস্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার
ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে ৬৫ বছর বয়সী ভোটার আব্দুল হাই বললেন, ‘খুব ভালা লাগলো, বাইন (ভাজ) করার ঝামেলা নাই, বাকসে (বাক্সে) ঢুকানোও লাগের না, কতও শান্তি, ভোট দিতাম গেছি- কইয়া দের আপনার পছন্দের প্রার্থীরে ভোট দেইন, পছন্দের প্রার্থীর নামের সোজা সাদা বটমে টিপ দিছি, পরে সবুজটাতে দিতেই ওকে কইছে, কি ভালা লাগছে, জীবনের প্রথম এইভাবে দিলাম’।
কিছুক্ষণ পরে নাজমা বেগম নামের মধ্যবয়সী একজন ভোটার ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বললেন, ‘কোন ভুল অইছে না, তাড়াতাড়ি ভোট দিয়া আইছি, ভালাঔ লাগছে’।
সুনামগঞ্জ শহরতলির জানীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইভিএম’এ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন আব্দুল হাই ও নাজমা বেগম। এই গ্রামের ৭৫ বয়সী ভোটার আব্দুল হক ইভিএম’এ ভোট দিয়ে খুশি।
তবে ইভিএম’এর ভোগান্তির কথাও বলেছিলেন কেউ কেউ।
এই কেন্দ্রের ভোটার ঝরনা বেগম (৩৫) বলছিলেন, কতবার যে ছাপ দেওয়া লাগলো, পরে ভেসেলিন আঙ্গুলে দিয়া ঘষতে ঘষতে ছাপ নিছে। এই কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। সকলেই বললেন, ভোট গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় লাইন দীর্ঘ হয়েছে।
নারী ভোটার জুনাকি বেগম বলেন, কিভাবে ভোট দিতাম, তা আমাদের আগে কেউ জানায় নি, কোনরকমে ভোট দিয়ে আসছি।
এই কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ভোগান্তি দূর করার চেষ্টা করছিলেন কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা থানার এস আই সোহেল মাহমুদ।
তিনি ইভিএম মেশিনের একটি কিবোর্ড হাতে নিয়ে নারীদের ভোট দেওয়া শিখিয়ে দিচ্ছিলেন।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আব্দুল হান্নান বললেন, ইভিএম’এ ভোটগ্রহণে কোন অসুবিধা হচ্ছে না, পুরুষরা একসঙ্গে ভোট দিতে আসেন না, নারীরা একসঙ্গে চলে আসেন, কেন্দ্রের অবকাঠামো সংকটও আছে। আরও বুথ করতে পারলে ভালো হতো। সেই ব্যবস্থা করার মতো কক্ষ নেই। একটি বড় কক্ষকে পর্দা মাঝখানে দিয়ে দুই বুথ করা হয়েছে। তিনি অবশ্য, এই সমস্যার মধ্যেও ভোটগ্রহণে কোন অসুবিধা হবে না জানিয়ে দিলেন।
জানীগাঁওয়ের পাশের হালুয়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়েও নারীদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে।
এই কেন্দ্রের ভোটার হোসনা বেগম বললেন, সকাল ৭ টায় এসেছিলেন, বেলা ১১ টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন নি তিনি। নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, সকলেই অপেক্ষা করছেন।
কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রণি চক্রবর্তী বললেন, বয়স্ক এবং শ্রমজীবীদের ইভিএমএ ভোট দেবার সময় ছাপ দিতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রয়োজনে আঙ্গলে ভেসেলিন লাগিয়ে ছাপ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানীগাঁও কেন্দ্রসহ ইভিএম’এ নেওয়া তিনটি ভোট কেন্দ্র ঘুরে গণমাধ্যম কর্মীদের বললেন, বয়স্ক এবং শ্রমজীবী মানুষ যাদের আঙ্গুলের ছাপ বসাতে একটু সমস্যা হচ্ছে, তাদের জন্য ইভিএম’এ ভোটগ্রহণ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে নির্ধারণ করা সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ টি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়নে রোববার ভোটগ্রহণ হয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিকেল ৪ টা পর্যন্ত দুই উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের ১৬২ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ১৫৩ কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ও শুধুমাত্র সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়।