ইয়াবা দিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
সদর থানার পুলিশ গত ৩ ফেব্রুয়ারি পৌর শহরের ধোপাখালি এলাকায় ৯০পিস ইয়াবা বড়িসহ দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে। তাঁরা দুজনই একাদশ শ্রেণির ছাত্র। এখন তাঁদের এলাকার লোকজন বলছে, ওই শিক্ষার্থীদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে তাঁদের নিজ এলাকা জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় বাজারে।
বুধবার বিকেলে লাউড়েরগড় বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন অংশ নেন। মানববন্ধনে বলা হয়, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন ও শাহজাহান সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। তাঁরা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পুলিশ ইয়াবা দিয়ে তাদের ফাঁসিয়েছে। তাঁরা নির্দোষ, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মানববন্ধনে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন, ইউপির ৯নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা মিয়া, শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম, বর্তমান সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন, স্থানীয় আ.লীগ নেতা মো. শাহজাহান, মুসলিম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা জসীম উদ্দিন, রিপন আহমদ, রইছ উদ্দিন, ব্যবসায়ী বিলাল মিয়া, আককাছ আলী, রইছ মিয়া, শাখাওয়াতের পিতা আব্দুল মোতালেব, মাতা নুরুন নাহার, চাচা আব্দুল মান্নান, চাচী নার্গিস আক্তার, শাহজাহানের মা রহিমা খাতুন, ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুইট আক্তার, সূর্য বানু, জুয়েনা আক্তার, লামিয়া মীম, আঁখি আক্তার।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ধোপাখালি এলাকা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ শাখাওয়াত হোসেন ও শাহজাহান নামের দুই যুবককে আটক করে। আটক করার পর তাদের কাছে থাকা একটি পুতুলের ভেতর থেকে ৯০পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এরপর থানায় মামলা হয় চারজনের বিরুদ্ধে। ওই দুজন বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন,‘ওই যুবককে ইয়াবাসহ হাতেনাতে পুলিশ আটক করেছে। পুতুলটি তো তাদের কাছেই ছিল। সুতরাং এখন অন্য কিছু বলে লাভ হবে না।’