ইয়াবা সম্রাজ্ঞী খেলা গ্রেফতার- তার মাধ্যমে মাদক ব্যবসার মূলে পৌঁছান

দিরাই উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শনিবার রাতে কথিত মাদক স¤্রাজ্ঞী হেলেনা আক্তার খেলাকে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে দিরাই থানা পুলিশ। রবিবার তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে গ্রেফতারকৃত হেলেনাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানে একজন মোটামোটি পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী আটক করা দিরাই থানা পুলিশের কৃতিত্ব বহন করে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনি মাদকবিরোধী অভিযান বেশ জোরোশোরে পরিচালনা করছেন। এতে বিভিন্ন জায়গায় যেমন ধরা পড়ছে নানা জাতের মাদক দ্রব্য, তেমন কিন্তু ধরা পড়তে দেখা যায় না এই ব্যবসার সাথে জড়িত বড় মাপের কোন রাঘব বোয়াল। অথচ এমন এক বেআইনি ব্যবসা কোন ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া চলতে পারে, এমন অবান্তর চিন্তা করার লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। মূল কথা হচ্ছে সমাজে মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে না পারলে এই ভয়াল নেশার সর্বনাশা হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটে হেলেনা আক্তার খেলার গ্রেফতার হওয়ার খবরটি আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা সম্ভব জেলায় ইয়াবার চালান কীভাবে এসে পৌঁছায়। কারা এই ব্যবসায় জেলায় গডফাদারের ভূমিকা পালন করেন সেটিও জানা সম্ভব বলেই মনে করি আমরা। আর নিছক মামুলী একটি মামলা দায়ের করার মধ্য দিয়ে যদি কর্তব্যকর্মের ইতি ঘটাতে চাওয়া হয় তাহলে মাদক ব্যবসার মূলে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এই ধরনের খেলাদের আইনের হাত থেকে সুচতুর পন্থায় রক্ষা করতে অনেক শক্তিশালী হাতকে সক্রিয় থাকতে দেখি আমরা। এরা গ্রেফতার হওয়াটাকে খুব বড় কিছু মনে করে না।
আমাদের সামাজিক অধঃপতনের অন্যতম এক উপসর্গের নাম হলো মাদক। মাদকের নিষিদ্ধ মাদকতায় কত তরুণ জীবনের যাবতীয় সম্ভাবনা খুইয়েছে, কত পরিবারের স্বপ্ন ভেঙ্গেছে, কত অপরাধের অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে; তার হিসাব মিলানো এককথায় অসম্ভব। আমাদের দেশের আইনি কাঠামোয় মাদক গ্রহণ করা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত। যারা মাদকের ব্যবসা করেন তাদেরকে নানা রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের আওতায় এটি করতে হয়। কিন্তু সরকারিভাবে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীরা যে সর্বাংশে আইন মান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করেন তা নয়। এরা যাদের কাছে মাদক বিক্রি করা একেবারেই বেআইনি তাদের কাছেও হরহামেশা এই নিষিদ্ধ বস্তুটি বিক্রি করতে দ্বিধা করেন না। এর বাইরে বেআইনী মাদক ব্যবসায়ীরা তো আছেনই। সুতরাং মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে সমাজদেহ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করার চিন্তা হবে এক ধরনের কল্পনাবিলাস মাত্র। আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনি এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করলে আখেরে ফল পাওয়া যাবে।
আমরা প্রত্যাশা করি, দিরাইয়ে গ্রেফতারকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী খেলাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ব্যবসার ভিতরের খবর সংগ্রহ করে পুলিশ বাহিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এই পুলিশ বাহিনির প্রতি মানুষের অগাধ প্রত্যাশা। আমাদের দেশটি এখন যেভাবে উন্নয়নের সিঁড়িগুলো টপকাচ্ছে সেখানে দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ এবং তার পিছনে পুলিশ বাহিনির অবদান স্বীকার্য। সুতরাং এই কৃতিত্বের দাবিদার পুলিশ বাহিনি নিশ্চয়ই মাদক ব্যবসার মূলে পৌঁছে একে নির্মূলকরণে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবেন, এটি আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।