- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দোয়ারার লৌহ শিল্পীরা

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। আর মাত্র কিছুদিন পরেই কুরবানি ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। ঈদ-উল আযহা সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার লৌহ শিল্পীরা। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়িয়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। তবে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বেশি এবং ঈদের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি থাকায় জমে উঠেনি বটি দা, কাচি, কোপা দা, ছুরি ও চাপাতির বেচাকেনা। ফলে এই মুহূর্তে অলস সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম হচ্ছে ঈদুল আযহা। আর এই ঈদে মুসলিম ধর্মের অনুসারীরা আল্লাহকে রাজি খুশি করতে পশু জবাই করে থাকে। এই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি। মাংস কাটা এবং কুরবানির পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব ব্যবহার করা হয়। ঈদের বাকি আরও একসপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে লৌহশিল্পীরা যথেষ্ট পরিমাণ দ্রব্য বিক্রির জন্য প্রস্তুত করতে পরিশ্রম করছেন।
দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৫ শত টাকা থেকে ৬ শত টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী নিটু দাস জানান, সারা বছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি আমরা। কুরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জবাই ছুরি মিলছে ৫০০-৬০০ টাকায়।
বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। ঈদের গরুর বাজার এখনো ভালোভাবে শুরু না হওয়া কারণ হিসেবে উলে¬খ করেন তারা। আগে মানুষ গরু কিনবে পরে ছুরি-চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনবে।
তবে কবে থেকে পুরোদমে বেচা কেনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, ঈদের ২/৩দিন আগে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী । তবে এবছর অন্যান্য বছরের চেয়ে বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা করেন তারা।
লৌহ শিল্পী নারায়ন দে জানায়, এ পেশায় অধিক শ্রম ব্যয় ও জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে আমরা এখনও আঁকড়ে ধরে আছি। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কুরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই আমরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। এই ঈদ মওসুম ছাড়াও সারা বছর কাস্তে, কুড়াল ইত্যাদি তৈরি করে সময় কাটে আমাদের।
নৈনগাঁও গ্রামের আসাদ আলী জানান, কুরবানির ঈদের এক সপ্তাহ বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছি আমরা। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকুর দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি। লোহার পাশাপাশি স্টিলের ছুরি চাকুও বিক্রি হয়ে থাকে যা স্থানীয় লৌহশিল্পীদের পেশাকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দেয়।