ঈদের আগে বাঁধের বিল দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে -জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় পাউবোর কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাঁধ নির্মাণে পিআইসিদের বকেয়া পাওনা টাকা প্রদানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ আলোচনা করেন। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ বলেন,‘পিআইসির সভাপতি-সদস্য সচিবরা তাদের বকেয়া পাওনা টাকার জন্য প্রতিদিনই অফিসে আসছেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের আলোচনার প্রেক্ষিতে সভায় জেলা প্রশাসকের মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘পোস্ট ওয়ার্কের পরিমাপ অনুযায়ী পিআইসিরা যে যতটুকু কাজ করেছেন, ততটুকু বিল অবশ্যই পাবেন। আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ করব যাতে ঈদের আগেই বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়। সে অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘ বর্তমান সরকার হাওর প্রধান সুনামগঞ্জ জেলাকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখছে। কারণ সুনামগঞ্জের বোরো ফসলরক্ষায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে অতীতের চেয়ে কয়েকগুন বেশী অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। পাউবো, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঠিক নজরদারীতে ও পিআইসিসহ সকলের প্রচেষ্টায় বাঁধের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ কাজ টেকসই হয়েছে। শতভাগ বোরো ফসল কৃষকের গোলায় উঠেছে। সুনামগঞ্জে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে শুধুমাত্র ধান থেকেই সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ফসল পাওয়া গেছে। ’
পাউবোর সুনামগঞ্জ অফিসের পওর শাখা ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূইঁয়ার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, পাউবোর পওর-২ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়তুন নবী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ সিংহ, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম বিল্লাহ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারনুর রশিদ, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ, ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কান্তি চত্রবর্তী, জামালগঞ্জের পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস, সদর উপজেলার পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী ফারুক আল মামুন, শাল্লার পাউবোর উপ সহকারি প্রকৌশলী শমশের আলী, দৈনিক আমাদেরসময়ের জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।
সভায় সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর শাখা- ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূইঁয়া জানান, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার সকল বোরো ফসলী হাওরের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেছে ৯৬৪ টি পিআইসি। প্রথমে ১৭৯ কোটি ৮৬ লাখ ৩৫ হাজার প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তবে পোষ্ট ওয়ার্ক পরিমাপ অনুযায়ী ১৫৪ কোটি ৯৭ লাখ ৮ হাজার টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্থ ছাড় হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনামগঞ্জের পিআইসির কাজের জন্য আরও ১৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকা দ্রুত ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমরা অনুরোধ করব।