ঈদের আগে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন যাত্রীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসির বাস চলাচল নিয়ে ঈদের আগে আবারও পরিবহন সেক্টর অশান্ত হতে পারে। ‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বিআরটিসি’র বাস চারটি’র বেশি চলতে পারবে না, যাওয়া-আসা মিলে ৮ বারের বেশি যাত্রী আনা নেওয়া করতে পারবে না’ এই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বুধবার রাতে সিলেট বিভাগীয় মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতির বাসভবনে মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সভা ডাকা হয়েছে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে সম্প্রতি বিআরটিসি’র বাস চলাচল শুরু হলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে নানাভাবে বিআরটিসি’র গাড়ি না চলার জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সর্বশেষ পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এই সড়কে বিআরটিসি’র গাড়ি চলা বেআইনী দাবি করে ধর্মঘটের ডাক দেন।
কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণ বিআরটিসি’র গাড়ি চলার পক্ষে থাকায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিআরটিসি’র বাস চলাচল শুরু হয়।
পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা জুয়েল মিয়া বলেন, বিআরটিসির বাস এই সড়কে চলাচলের শুরুতেই বলা হয়েছিল, তাদের ৪টি বাস চার বার যাবে এবং চার বার আসবে। কিন্তু তাদের এই বাসগুলো এখন অসংখ্যবার যাওয়া আসা তো করছেই মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম-সিলেটের রাতের গাড়ি দিয়ে দিনের বেলায় তারা এই সড়কে যাত্রী বহন করছে। এই নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ। আমরা মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। বিআরটিসির সিলেটের ম্যানেজার জুলফিকার আলী সভায় সন্তোষজনক কোন বক্তব্য দিতে পারেন নি। এই অবস্থায় আজ রাতে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা সিলেটে সভায় বসবেন।
ঈদের আগে আগে এই নিয়ে সড়ক পরিবহনে যাত্রী হয়রানির কোন কর্মসূচি আসবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল মিয়া জানালেন, সবকিছুই মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বিভাগীয় সভায় সিদ্ধান্ত হবে। তবে বিআরটিসি’র অন্যায় অশোভন আচরণের প্রতিবাদ জানানো হবে।
বিআরটিসির সিলেটের ম্যানেজার জুলফিকার আলী বলেন,‘সুনামগঞ্জে পরিবহন মালিক সমিতিগুলোর ৪১৮ টি গাড়ি আছে। আমাদেরকে তারা বলছে ২ টি’র বেশি গাড়ি চালাতে পারবো না। আমরা যদি ৬ টি গাড়ি না চালাই তাহলে যাত্রীদের এক ঘণ্টা পর পর সার্ভিস দেওয়া যাবে না। ৮ টি বা ১০ টি গাড়ি হলে আধা ঘণ্টা পর পর সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা এখন ৪ টি গাড়ি চালাচ্ছি, এই গাড়ীগুলো ২ বার করে যাত্রী আনা নেওয়া করছে। দেড় ঘণ্টা পর পর একটি গাড়ি যাত্রী নিয়ে যাওয়া আসা করছে। আমাদের যদি তাদের দাবি মানতে হয়, তাহলে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পর একটি গাড়ি ছাড়তে হবে। আমাদের গাড়িকে স্টেশনে বসে থাকতে হবে, সেটা কীভাবে মানা যায়। সরকার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, অথচ আমরা গাড়ি-শ্রমিককে বসিয়ে রাখবো, তা কী করে হয়।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, আমাদের ৪ টি গাড়ি চার বার চললে, সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমি বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ স্যারের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছিলোম। তিনি বলেছেন, গাড়ি আমরা এই সড়কে ৪ টি রাখবো, এই গাড়িগুলো যতবার যাত্রী নিয়ে যাওয়া-আসা করতে পারবে ততবারই আমাদের চালাতে হবে। আমাকে তাঁর (চেয়ারম্যান, বিআরটিসি’র) সিদ্ধান্ত মোতাবেকই গাড়ি চালাতে হবে। আমরা চট্টগ্রামের গাড়ি এই সড়কে চালাচ্ছি এই অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের চার গাড়ি’র মধ্যে কোন গাড়িতে ত্রুটি দেখা দিলে, অন্য রোডের গাড়ি দিয়ে এই রোডের যাত্রী বহন করছি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানালেন, বিআরটিসির গাড়ি ৪ বার যাওয়া-আসা করবে। এখন তারা নাকি বেশি যাওয়া-আসা করছে, এমন অভিযোগ পরিবহন মালিক শ্রমিকদের। মঙ্গলবার বিআরটিসি’র সিলেট ডিপোর ম্যানেজারকে এ বিষয়ে জানার জন্য ডাকা হয়েছিল, তিনিও সন্তোষজনক কিছু বলতে না পারায় আমি আজ বুধবারই বিআরটিসি চেয়ারম্যানের কাছে এই বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখছি।