ঈদের ছুটি শেষ হয়নি ডাক্তারদের!

বিশেষ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা। ১৫ থেকে ২০ জন রোগী লাইনে দাঁড়িয়েছেন শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহি:বিভাগের মেডিকেল অফিসার ড. মেসবাহ্ উদ্দিনের কক্ষের সামনে। সকাল থেকেই এই চিকিৎসক রোগী দেখছেন, রোগীর চাপ থাকায় কেবল ভেতরে ঢুকাচ্ছেন আর এক দুই মিনিটের মধ্যে বিদায় করছেন। হাসপাতালের কর্মচারীরা জানালেন, তিনি একা, এ জন্য রোগীদের সময় দিতে পারছেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, ডা. ফরহাদ, ডা. সাদী ও ডা. রাকিবকে ঈদের ছুটির পর আর দেখা যায়নি। ডা. রীতা বদলির আদেশাধীন অবস্থায় আছেন। ঈদের পর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না।
উপজেলার কান্দখলা গ্রামের রোগী মনোরঞ্জন দাস বলেন,‘অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে সকাল ১০ টায় এসে সাড়ে ১২ টায় যাচ্ছি। ডাক্তার নামে মাত্র আমাদের কথা শুনেছেন আর ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। ডাক্তারের সঙ্গে ভাল করে কথাই বলতে পারিনি।’
রৌয়া গ্রামের ৪৮ বছর বয়সী উমেশ দাসও একই মন্তব্য করেন।
এমন চিকিৎসক সংকট কেবল শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’এর নয়। হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের অন্যান্য উপজেলায়ও একই অবস্থা। জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রসূতি ও স্ত্রী রোগের ডাক্তার ঈদের ছুটির পর হাসপাতালে আসেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের মধ্যে ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও ডা. নাসির উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেষণে আছেন। ডা. ফয়সল আহমদ সজিব ও ডা. হাসান আতিক চৌধুরী ঈদের ছুটির পর এখনো (মঙ্গলবার) আসেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতেও ঈদের ছুটিতে যাওয়া ডাক্তারদের অনেকে ফিরেননি।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন,‘ঈদের ছুটি শেষ হবার পর থেকে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছি, দোয়ারাবাজারে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে অনুপস্থিত দুই ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে। একইভাবে জগন্নাথপুরের অনুপস্থিত ৩ ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে। শাল্লায় যাওয়া হয়নি, খোঁজ-খবর নিয়ে যারা অনুপস্থিত রয়েছেন, তাদের শোকজ করা হবে।’