ঈদের পরই জমে উঠবে নির্বাচনী রাজনীতি- সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদ উদযাপন

বিন্দু তালুকদার
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র আর কয়েক মাস বাকি। নির্বাচনের পূর্বে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল আজহা। এই ঈদের পরপরই নির্বাচনী রাজনীতি জমে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাই এই ঈদ একই সাথে হয়ে উঠবে রাজনীতিকদের জনসংযোগের অন্যতম এক উপলক্ষ।
ঈদের পরপরই নির্বাচনী গণসংযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে নির্বাচনী প্রচার করবেন না তাঁরা। আগস্ট মাসে শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করবেন। ঈদের পর এলাকার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করবেন। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পুরোদমে মাঠে নামবেন তাঁরা।
জেলার বাসিন্দা অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ঈদ পালন করবেন সৌদি আরবে। তিনি পবিত্র হজ্বব্রত পালন শেষে আগামী ২৮ আগস্ট দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
এই আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ আজাদ ডন জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের পর এলাকায় আসবেন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করবেন।
সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেছেন,‘ আমি ধর্মপাশায় নিজ বাড়িতে ঈদ পালন করব। ঈদের পর ২৮ আগস্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকব ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করব।’
সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল বলেছেন, তিনি নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। ঈদের পর নির্বাচনী এলাকায় ঘুরবেন ও কুশল বিনিময় করবেন।
এই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার বলেন, ‘নিজ গ্রাম জামালগঞ্জের ফেনারবাঁকে ঈদ পালন করব। এর পর এলাকার দলীয় নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণিপেশার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করব। এরপর ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জের শোক দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকব।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম জানিয়েছেন, নিজ এলাকায় ঈদ পালন করবেন ও ঈদের পর এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন।
এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেন ঢাকায় ঈদ পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। ঈদের পর এলাকায় গণসংযোগ করবেন তিনি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিক চৌধুরী বলেন,‘প্রতিবছরই ধর্মপাশায় নিজ বাড়িতে ঈদ পালন করি। এবারও বাড়িতেই ঈদ পালন করব। ঈদের পর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করব।’
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও তাহিরপর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন,‘তাহিরপুরের ধুতমা গ্রামে ঈদ পালন করব। প্রতিনিয়তই মাঠে আছি, ঈদের পরও নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি নানা কর্মসূচিতে থাকব ।’
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল দেশের বাইরে আছেন বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা ঈদের পরপরই নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারি পিন্টু হাউই।
এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাইয়ের কুলঞ্জ গ্রামে ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। ঈদের পর তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করবেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা জাপার আহবায়ক অ্যাড.পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন,‘আমি গ্রামের মানুষ, গ্রামেই ঈদ পালন করব। ঈদের পর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে।’
এই আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ঢাকার বাসায় ঈদ করবেন বলে জানিয়েছেন। ঈদের পরপরই নির্বাচনী এলাকায় আসবেন বলে জানান তিনি।
সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘আমি সুনামগঞ্জেই ঈদ পালন করব। ঈদের পর সদর ও বিশ্বম্ভরপুর এলাকায় নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণির লোকজনের সাথে কুশল বিনিময় করব। আগামী মাসের শুরু থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করব।’
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পিপি অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বলেন,‘ সুনামগঞ্জের বাসায় ঈদ পালন করব ও এরপর বিভিন্ন এলাকায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করব। আগস্ট মাসে আমি বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় শোক দিবস পালনের নানা কর্মসূচি পালন করছি।’
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমায় সবার জীবন হোক ভাস্কর এই কামনা করি। সুনাগঞ্জেই ঈদ পালন করব এবং ঈদের পরপরই সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করব।’
সদর আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়া সুনামগঞ্জেই ঈদ পালন করবেন ও দলের নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
একই আসনের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন ছুটিতে দেশের বাইরে আছেন বলে জানা গেছে। ফিরে এসে এলাকায় গণসংযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্টজনরা।
এই আসনে জাতীয় পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে ইনান ইসমাম হোসেন চৌধুরী প্রিয় সুনামগঞ্জের বাসায় ঈদ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ঈদের পরে বিশ্বম্ভরপুরে জনসংযোগের বৃহৎ কর্মসূচী পালন করবেন বলে জানান।
সুনামগঞ্জ-৪ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী অনেকেই। তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক নিজ বাড়িতেই ঈদ পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারি মোশাহিদ আহমদ। তিনি জানান, এমপি মানিক ঈদের পর এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন। সেপ্টেম্বরের প্রথমে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগদান করবেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী বলেন,‘ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছাতকের নিজ বাড়িতেই ঈদ পালন করব। ঈদের পর ছাতকে জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দিব।’
এই আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী ছাতকেই নিজ এলাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।
জাপার সম্ভাব্য প্রার্থী ও দোয়ারাবাজার উপজেলা জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজ বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুরে ঈদ পালন করবেন এবং ঈদের পর এলাকায় গণসংযোগ করবেন।