ঈদের সময় যেন কোন পরিবহন দুর্ভোগের উদ্ভব না ঘটে

খবরটি অবশ্যই দুশ্চিন্তার ও উদ্বেগের। জেলার বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকরা নাকি আসন্ন ঈদের আগে আবারও ধর্মঘট কর্মসূচীতে যেতে পারেন। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর গতকাল এরকম একটি সংবাদ ছেপেছে। ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ ঘরে ফিরতে ব্যাকুল থাকেন। বহু দূরে অবস্থানকারী দীর্ঘ কর্মক্লান্ত মানুষগুলো ঈদের ছুটিতে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ব্যাকুল থাকেন। স্বজন সান্নিধ্যে এসে এরা ভুলতে চান পেছনের পরিশ্রমি জীবনের কষ্টের কথা। কয়েকদিন বাড়িতে থেকে নতুন উদ্যম সংগ্রহ করে আবারও কর্মস্থলে ফিরেন এরা। ঈদে ঘরমুখো এই ব্যাকুল মানুষগুলোকে জিম্মি করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে ফন্দি এঁটেছে পরিবহন ব্যবসায়ীরা। বছরে আরও কত দিন আছে, মাস আছে, আছে বছর। সবকিছু বাদ দিয়ে ঈদের সময়টাকেই কেন তারা বেছে নিচ্ছেন? এর সহজ উত্তরÑ এসময় মানুষের তীব্র পরিবহন চাহিদাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে দাবি আদায় করতে চাইছেন তারা। একটি সংবেদনশীল সময়কে বেছে নেয়ার পেছনে তাদের যে কূট উদ্দেশ্য সেটি চরম অমানবিক, অমার্জিত অপরাধও। বেসরকারি বাস মালিক-শ্রমিকরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কর্মসূচী ঘোষণা করেননি তবে আভাসে ইঙ্গিতে এরকম জনভোগান্তি তৈরিকারী কর্মসূচী যে আসতে পারে তাই বুঝিয়েছেন। সরকার ও প্রশাসনকে তাদের এই অভিসন্ধি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। কর্মসূচী ঘোষণার পর নয়, আগেই তাদের এই অপচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত করা একান্ত প্রয়োজন।
রাস্তায় বিআরটিসির বাসের চলাচল হ্রাস করার দাবি তাদের। ইতোমধ্যে বিআরটিসির সার্ভিস বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন বস্তাপচা বাসের মালিকরা নিজেদের পণ্যের মানোন্নয়ন করার পরিবর্তে বিআরটিসির উন্নত সার্ভিসকে প্রতিরোধ করতে মাঠে নেমেছেন। এমন অন্যায় আবদার কখনও বরদাস্তযোগ্য নয়। তারা বাজারের মূল যে নিয়ম সেটিকে অস্বীকার করে আধিপত্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছেন। এই আধিপত্যবাদী ব্যবস্থায় যাত্রীদের কোন স্বাধীনতা থাকে না। বাস মালিকরা যা বন্দোবস্থ করবেন তাই মানতে হবে অসহায় যাত্রী সাধারণকে। আমাদের ভাবতে অবাক লাগে এ কেমন দাবি বাস মালিকদের? তারা কেন নিজেদের সেবার মান বিআরটিসির তুলনায় বাড়াচ্ছেন না? সেবার মান না বাড়িয়ে অন্য একটি উন্নত পণ্যকে বাজার থেকে অনৈতিকভাবে গায়ের জোরে হটানোর তাদের যে মনোবৃত্তি তা অগ্রহণযোগ্য। সাধারণ মানুষ নিকট অতীতে সেটি বুঝিয়ে দিয়েছে। সরকার ও প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের এই মনোভাবটি বুঝতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি যথেষ্ট ঘোলাটে হতে পারে।
কালবিলম্ব না করে বিষয়টির প্রতি নজর দিতে আমরা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। কোন আলোচনা কিংবা কালক্ষেপণ নয়, এককথায় তাদের এই ধরনের হঠকারী কর্মসূচী থেকে সরে আসার নির্দেশ দিতে হবে প্রশাসনকে। বিআরটিসির কোন বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকলে তা সালিশি পন্থায় নিষ্পত্তি করে নিতে হবে। কোন অবস্থাতেই সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে দুর্ভোগ তৈরিকারী কর্মসূচীকে প্রশ্রয় দেয়া চলবে না। অন্যদিকে বিআরটিসি যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান সেহেতু তাদেরকে নিয়ম-নীতি মানতে বাধ্য করা সহজ। তারা যাতে কখনও কোন অনিয়ম না করতে পারে সেটি কঠোর তদারকিতে রাখতে হবে। আমরা চাই সুনামগঞ্জ-সিলেট রাস্তায় বেসরকারি পরিবহন ও বিআরটিসি দুই সহোদরের মতো চলাচল করুক। কোন অবস্থাতেই যেন একটি অপরটির উপর আধিপত্য স্থাপন না করে। যাত্রীরা যাকে পছন্দ করবে তাকেই নিজের বাহন করে নিবে। কোন অবস্থাতেই যাত্রী স্বাধীনতাকে ক্ষুণœ হতে দেয়া চলবে না।