উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিলকিছ আক্তার

স্টাফ রিপোর্টার
আর্থিকভাবে চরম অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে বিলকিছ আক্তার। সংসারে অভাব-অনটন আর নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও বিলকিস আক্তার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। টাকার অভাবে প্রত্যন্ত গ্রামের এই মেয়েটি কখনো প্রাইভেট পড়তে পারেনি। স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরাই তাকে সহযোগিতা করেছেন-উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু এখন কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে, লেখাপড়া চালিয়ে যাবে এই দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছে তাকে, সে ভাবছে এখানেই থেমে যেতে হবে?
বিলকিছ আক্তারের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারগাঁও গ্রামে। বাবা কাজল ইসলাম বর্তমানে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। মা রহিমা বেগম গৃহিনী। বিলকিছের আরও এক বোন ও এক ভাই আছে। ভাই সজল ইসলাম অষ্টম শ্রেণি এবং বোন সুমাইয়া আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। কাজল ইসলামের নিজের কোনো জমিজিরাত নেই। অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকেন।
বিলকিছ আক্তার জানায়, এলাকার রাগিম-বাবেয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এবাররের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিলকিছ জানায়, বাবার আয় দিয়ে সংসারই চলে না। তার ওপর ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়া আছে। তাই নিজের লেখাপড়া ও সিলেটে থাকার খরচ টিউশনি করে তাকেই জোগার করতে হয়েছে। কলেজের শিক্ষকেরাও তাকে সহযোগিতা করেছেন।
বিলকিছ আক্তার জানায়, যত কষ্টই হোক সে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকায় ফরম সংগ্রহ এবং সবখানে গিয়ে হয় তো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না তার। তবে তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার এবং লেখাপড়া শেষ করে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করার।
বিলকিছ আক্তারের বাবা কাজল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েটা পড়াশোনায় বেশ ভালো। কিন্তু আমি তাকে ঠিকমতো সহযোগিতা করতে পারি না। এতে কষ্ট হয়। কী করবো বলেন, আগে তো খেয়েদেয়ে বাঁচতে হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, আমি এই পরিবারটিকে চিনি। নেহায়েত দরিদ্র পরিবার। বিলকিছ আক্তার মেয়েটা মেধাবী। এভাবে মাঝখানে এসে তার পড়ালেখা থেমে যেতে পারে না। আমাদের সবার উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা।