উন্নয়নবঞ্চিত কাইয়ারগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলতি নদীরপাড়ে অবস্থিত কাইয়ারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। অতি প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে কাইয়ারগাঁও বাজার। পশ্চিমে বহমান সুদৃশ্য চলতি নদী। আছে বিদ্যালয়ের প্রশস্ত খেলার মাঠ এবং নিরিবিলি পরিবেশ। পাশে রয়েছে জেলা শহর থেকে ডলুরা শহীদ মিনার আসা-যাওয়ার সুদীর্ঘ মাটির বেড়িবাঁধ রূপে যাতায়াত সড়ক।
দীর্ঘদিন ধরে কাইয়ারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আসছে। প্রায় ৬০ বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়ের অবকাঠাগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় উন্নয়নের দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষানুরাগীদের।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
জানান, ১৯৬৩ সালে এক একর পনের শতাংশ জায়গার উপর কাইয়ারগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩৭ বছর পর একটি নতুন দু’তলা ভবন নির্মাণ হয়। দুই ভবন মিলে শ্রেণী কক্ষ হয় ৫টি। পুরাতন ভবনে ৩টি এবং নতুন ভবনে ২টি শ্রেণী কক্ষ রয়েছে। এখন পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি ঝরে পড়ে। ফ্লোর ভাঙা, দরজা জানালা ভাঙা, ছাদ ও দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। দীর্ঘদিন হলে ও নতুন ভবনটি রঙ বিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের চারিদিকে বাউন্ডারী দেওয়াল নেই। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকের কিছু অংশে বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানি সংকট নিরসনে নলকূপ নেই। আছে আসবাবপত্রের সমস্যা। বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদ আছে ৭টি। শিক্ষক আছেন ৬ জন, ১ জন ডেপুটেশনে। শিক্ষার্থী ৪৬৭ জন।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোনাকী আক্তার ও মারুফ মিয়া বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানির নলকূপ নেই। শ্রেণি কক্ষে বসলে বৃষ্টির পানি পড়ে জামা-কাপড় ও বই ভিজে যায়। এসব সমস্যা সমাধানের দাবি আমাদের।’
শিক্ষানুরাগী নজরুল ইসলাম ও আলী আজগর বলেন,‘এই পুরাতন বিদ্যালয়ে অনেকে লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই বিদ্যালয়ে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ লেখাপড়া করে আসছেন। কিন্তু এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না।’
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খুরশেদ আলী বলেন,‘আমাদের কাইয়ারগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন নেই। আমরা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবুও উন্নয়ন হচ্ছে না। এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন,‘বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভাল আছে। বিদ্যালয় ঘিরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিৎ।’