উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ

‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’ শ্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আজ থেকে একযুগে শুরু হচ্ছে ৩ দিনের ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা। মূলত সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে জনগণের সামনে উপস্থাপন এবং সরকারি সেবাসমূহ সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করতেই সরকার এমন মেলার আয়োজন করে থাকেন। সরকার ও জনগণ পরষ্পর বিচ্ছিন্ন কোন সত্বা নয়। বরং আধুনিক গণতন্ত্রের মূল দর্শন অনুসারে একটি কল্যাণকর সরকারের সার্বিক সত্ত্বার অগ্রভাগে থাকে জনগণের অবস্থান। জনগণের জন্যই সরকার, আধুনিক গণতন্ত্রের এমন এককথার প্রকাশ করা যায়। সুতরাং জনগণকে যখন সরকারের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসাবে গণ্য করা হয় তখন সরকার ও জনগণের সম্পর্ক থাকে ঘনিষ্ট ও পরষ্পর সংলগ্ন। এরকম অবস্থায় উন্নয়ন মেলার মত ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সরকার ও জনগণের মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে থাকে, সরকার সেই ফলাফলকে ধারণ করে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পায়। এমন শুভ ও কল্যাণমুখী একটি খোলা আয়োজনের সফলতা কামনা করি আমরা।
বর্তমান সরকার কার্যত দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। বলা যেতে পারে স্বাধীনতার পর উন্নয়ন কিংবা অগ্রগতি, দুই ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের বিগত দুই মেয়াদের অর্জন অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করবে। এ সময়ে দেশের অভ্যন্তরে যেমন নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তেমনি এ সময়েই আমাদের বিদেশ নির্ভরতা কমে গিয়ে নিজের সামর্থ্য দিয়ে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনার সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। এতে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মান-সম্মান ও অবস্থান অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ভ্রƒকুটি উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা একটি কার্যকর সরকার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। জাতীয় এই সক্ষমতার জায়গা তৈরি হওয়ায় সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর নানা দেশে বিপুলভাবে সমাদৃত ও স্বীকৃতি পাচ্ছেন। দেশের জনগণের জন্য এরকম অবস্থা গৌরবের। এই যে এতসব অর্জন, জনগণকে উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিযুক্ত করে সেটি লাভ করা কখনও সম্ভব নয়। সরকারের আজকের উন্নয়নের যে গৌরবগাঁথা তৈরি হয়েছে তার মূল কারিগর কিন্তু আপামর জনসাধারণই। সুতরাং এই সময়ে ইতিহাস তৈরির মূল কারিগর আমাদের লড়াকু জনগোষ্ঠীকে অভিবাদন জানাতেই হয়।
সরকারের সাথে জনসাধারণের সব দূরত্ব ঘুচে গেছে, এমন কথা বলার অবস্থা তৈরি হয়নি। এখনও সরকারযন্ত্রের মধ্যে থেকে অথবা সেখান থেকে রস সংগ্রহ করে একটি সংখ্যাল্প শ্রেণি দুর্নীতি, লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উন্নয়নের গ্রাফকে ভীষণভাবে অসম করে রেখেছে। এই সংখ্যাল্প শ্রেণির ক্ষুদ্র একটি অংশ আজ ‘অতি ধনী’ অভিধায় অভিষিক্ত হয়ে আমাদের উন্নয়ন দর্শনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। সরকার যদি উন্নয়নের এই বিষফোড়ার বিষয়ে সচেতন না হন তাহলে সরকার ও জনগণের দূরত্ব আরও বাড়বে বৈ কমবে না। উন্নয়ন বলতে সকল জনগণের সুষম উন্নয়ন বুঝায়। পাঁচ জনের উন্নয়ন দিয়ে এক শ’ জনের হিসাব করার যে কারসাজি সেটি আমাদের অপরাপর উন্নয়ন কর্মকা-কে ম্লান করে দিবে। আজ যখন সরকার উন্নয়ন মেলার মধ্য দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন তখন এই বৈসাদৃশ্যের জায়গাটুকু চিহ্নিত করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য বলেই মনে করি।