উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সেতু, সড়ক ও রেললাইন

গত দুই দিনে এলজিইডি’র উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রকৌশলী দল নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণের জন্য সদর উপজেলার তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। এলজিইডি’র সদর দপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিচালক আলী হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে এই পরিদর্শন সম্পন্ন হয়। পরিদর্শিত স্থানগুলো হলো আমবাড়ি থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবিত এলাকা, নীলপুরে মরা সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান এবং ধারারগাঁওয়ে সুরমা সেতুর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক দীর্ঘদিন ধরে এই তিনটি অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। শহরের সড়কের উপর অত্যধিক চাপ কমানোর জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সদর উপজেলার একাংশসহ দোয়াবারাজারের একাংশের মানুষের জেলা সদরের সাথে সহজ সংযোগ স্থাপনসহ প্রস্তাবিত ডলুরা শুল্কবন্দরের সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপনের জন্য ধারারগাঁওয়ে সেতু নির্মাণ এবং স্থানীয় মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে নীলপুরে মরা সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের জন্য ড. সাদিক এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে আধা সরকারি পত্র লিখেছিলেন। বলাবাহুল্য এই তিন প্রকল্পের অপরিহার্যতা সর্বজন স্বীকৃত।
কোন প্রকল্পই হুট করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। প্রকল্প গ্রহণের আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা ও প্রাক্কলন তৈরি, উন্নয়ন কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্তকরণ, একনেকে অনুমোদন, অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা, সরকারি ক্রয় নিয়মাচার অনুসরণ করে টেন্ডার আহ্বান ইত্যাদি প্রক্রিয়া পরিপালন করে যেকোন কাজ করতে হয়। বলা বাহুল্য এইসব প্রক্রিয়াগুলো কিছুটা সময়সাপেক্ষ তো বটেই। তবে মূল কথা হলো, সবগুলো প্রক্রিয়া যদি সময়মত শুরু ও শেষ করার বাস্তবতা দেখা যায়, তাহলে মানুষের মনে বিশ্বাস জমে যে কাজগুলো একসময় হবে। আর যদি মাঝপথে যেকোন প্রক্রিয়া আটকে যায় তখনই ঘটে বিপত্তি। আমরা আশা করব, তিন স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য এলজিইডির পাঠানো প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন যেন লাল ফিতার বদ্ধ কুঠরিতে দম আটকে মারা না যায়।
সড়ক, সেতু নির্মাণ করা ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ারই অংশ। যেকোন এলাকায় নতুন নতুন চাহিদা তৈরি হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে, এভাবেই উন্নয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। এর নামই উন্নয়ন। আমরা এখন এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি যেখানে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সুতরাং উপরে বর্ণিত তিন প্রকল্প নিয়ে আশাহত হওয়ার কিছু নেই বলেই আমরা মনে করি। এলজিইডি যেহেতু এই কাজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে তাই আমরা বিশ্বাস করি এগুলোর বাস্তবায়ন হবেই।
এবার আমরা বহুবার বলা একটি কথা আবারও পুনরুক্ত করতে চাই। সেটি হল, সিলেট থেকে ছাতক হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত এবং ধর্মপাশা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ। সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনকল্পে এই দুই রেললাইন সম্প্রসারণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বলা যেতে পারে যোগাযোগ খাতের অন্য যেকোন কাজের চাইতে এটি অনেক বেশি দরকারি। জেলাবাসীর রেললাইন স্থাপনের এই আকাক্সক্ষার বিষয়টি বহুসময়ে বহুভাবে নীতিনির্ধারকদের নজরে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। একটি উন্নয়নকামী সরকারের কাছে তাই আমাদের পুনরায় অনুরোধ থাকবে জেলার যোগাযোগের হুদপি- হিসাবে এই রেললাইন স্থাপনের বিষয়টিকে অনুগ্রহ পূর্বক গুরুত্ব দিন।