উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার দিঘলবাক এলাকায় উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে পারছেন না প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক মৎস্যজীবীদেরকে মাছ ধরতে বাধা দিয়ে নিজেরা মাছ ধরে বিক্রি করে ফায়দা লুটছে।  প্রতিকার চেয়ে মৎস্যজীবীরা জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও কোন কাজ হচ্ছে না।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দায়েরকৃত মৎস্যজীবীদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি,পাইলগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত কাঞ্চা বিবিয়ানা গুলমা মরণকালী ও কুশিয়ারা জলমহালটি উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মৎস্য আরোহনের কথা। কিন্তুু দিঘলবাঁক গ্রামের মুজিব উদ্দিন উন্মুক্ত জলমহালটি দখল করে মৌলভীজার জেলার দাউদপুর গ্রামের আওলাদ আলীসহ ৫ জন মৎস্যজীবী জেলেদের নিকট ২০ লাখ টাকায় মাছ ধরার জন্য বিক্রি করে দেন। এখন আমরা প্রকৃত মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে গেলে প্রভাবশালী বিএনপি কর্মী মুজিব উদ্দিন এতে বাধা প্রদান করেন।
দিঘলবাঁক গ্রামের মৎস্যজীবী আলী আহমদ জানান, উন্মুক্ত জলাশায়ে নদীর তীরবর্তী মৎস্যজীবী হিসেবে আমাদের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের কথা থাকলেও প্রভাবশালী একটি মহলের কারণে আমরা জাল ফেলতে পারছি না। এ অবস্থায় আমরা কষ্টে দিনযাপন করছি।
তিনি বলেন, ৩০জন মৎস্যজীবী স্বাক্ষরিত একটি আবেদন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা   ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে দাখিল করে প্রতিকার চাইলেও কোন সুবিচার পাচ্ছি না।
অভিযুক্ত মুজিব উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এলাকার মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনে আবেদন করে জলমহালটি এবার উন্মুক্ত রেখেছি। স্থানীয় এলাকাবাসী মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যারা অভিযোগ করছেন তারা বিগত দিনে টোকেন ফি দিয়ে মাছ ধরতেন। এবার সুবিধা না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে মাছ ধরতে পারেন এ বিষয়ে থানাকে সহযোগীতা করতে বলেছি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হারুণ রশিদ চৌধুরী বলেন, ওই জলমহালে যারা মাছ ধরতে পারছেন না তারাও প্রকৃত মৎস্যজীবী নয়। যারা ধরছেন তারাও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাছ ধরছেন। আমরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছি।