উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, উৎসবের আমেজে জামালগঞ্জ

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী ১৮ জুন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে জমে ওঠেছে জমজমাট প্রচার প্রচারণা। এই উপজেলায় দুই শক্তিশালী রাজনীতিকের লড়াই। দুজনেই আওয়ামী লীগের নেতা স্থানীয়ভাবে প্রবীণ নেতা এবং জনপ্রতিনিধি। একজন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ মিলে ৬ বারের জনপ্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ। তাঁর প্রতীক নৌকা। আরেকজন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম। তাঁর প্রতীক মোটরসাইকেল।
দুজনেই সমানতালে গণসংযোগে রয়েছেন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দুজনের মুখেই। একজন বলছেন ‘আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী, নৌকা আমার প্রতীক, এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার বিকল্প নাই।’ ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম শামীমের দাবি দলের রাজনীতি করেই কাটিয়েছি ৪০ বছর, আমাকে ভোট দিলেই এলাকার উন্নয়ন হবে।’ রেজাউল করিম শামীম নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ করলেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭২২ জন ভোটার। ৪৬ টি কেন্দ্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৫৬ হাজার ৪২৬ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ৫৬ হাজার ২৬০ জন। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য ৪৬ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২৮৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৫৭৪ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ১০ মার্চ রোববার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবার কথা ছিল। ৮ মার্চ শুক্রবার রাত পৌনে নয়টায় সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন থেকে এই উপজেলার নির্বাচন স্থগিতের কথা জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এই উপজেলায় ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয় মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
উপজেলার জামলাবাজ গ্রামের রাসেল মিয়া বলেন, আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হোক।
বেহেলী গ্রামের আসাদ মিয়া বলেন, জামালগঞ্জ হাওর এলাকা, এই এলাকার উন্নয়নে যে কাজ করবে, ভোটাররা তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
ভীমখালি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার বলেন, জামালগঞ্জ একটি অবহেলিত এলাকা এখানকার নারীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। নারী শিক্ষার বিষয়ে যিনি কাজ করবেন, তাকেই আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করবেন তাঁরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম শতভাগ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনকে ইতিমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। দুইজন সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে ইউসুফ আল আজাদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে জনগণ যদি স্বতস্ফুর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে পারেন তাহলে আমার বিজয় নিশ্চিত।
আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ করেছিলেন। এলাকাতে এমপি আসতেই পারেন, যেহেতু উনার নির্বাচনী এলাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী ভীত হয়ে এসব অভিযোগ করছেন।
তিনি বলেন,‘মানুষ চায় উন্নয়ন আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় পুলিশ কাজ করছে।
সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ও জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল বলেন,‘আচরণবিধি লংঘন হচ্ছে কি না, তা দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তাঁদের কার্যক্রম চলবে।