উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, এই বাগানে শত ফুল ফুটুক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শত ফুল ফুটার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল দলটির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সেটি দূর করেছেন। গতকালকের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার নির্বাচনযোগ্য ১০ উপজেলার মধ্যে সাত উপজেলায়ই বিএনপি’র এক বা একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণা সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ ভাগ্যের বরপুত্রকে চ্যালেঞ্জে ফেলবে নিঃসন্দেহে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সর্বাবস্থায় উত্তম। এখানে নির্বাচকম-লীর প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও স্বাধীনতা থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন নির্বাচন আসলে কোন নির্বাচনই হতে পারে না। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোন পর্যায়ের নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা থাকে সবসময়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাচনটি অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ওই নির্বাচনটি অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার অভিযোগ এনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও তারা জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেড় মাস প্রায় অতিক্রান্ত হলেও নিজেদের অভিযোগের সমর্থনে কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণাদি উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নির্বাচকম-লীর পক্ষ থেকেও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে কোন প্রতিবাদ উঠেনি। এরকম অবস্থায় বিএনপির দাবি আকাশে তীর ছুড়ার মতোই লক্ষহীন। এই ধরনের অপ্রস্তুত ঘোষণা দলটির তৃণমূলকে আরও অসংগঠিত করবে। বিএনপি হলো নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকলে এরকম দল শুকাতে থাকে। নির্বাচনই হল দলের প্রাণ সঞ্জীবনী। তারই লক্ষণ মিলল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচন করার পক্ষে দেয়া মতামত থেকে। আমরা আশা করব তাদের অংশগ্রহণে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনটি সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণমূলক হয়ে উঠবে।
স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের নির্বাচনটি জনগণের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। এই নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান ও ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রার্থীদের অধিকাংশই এলাকার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রার্থীরা বসন্তের কুকিলের মতো উড়ে এসে জুরে বসেন না। অন্যদিকে ভোটারদের আবেগও একেবারে বাড়ির কাছের অতি চেনা ব্যক্তিটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়। প্রার্থীদের স্থানীয় জনসম্পৃক্তির কারণে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ থাকে বেশি। খালি মাঠে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দিবে না। নির্বাচন পরিচালনাকারী স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি ভালভাবেই বুঝেন। তাই ভোটের দিন কোন শক্তিমান প্রার্থী মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে নয়-ছয় চিন্তা করবেন এরকমটি ভাবার অবকাশ নেই। স্থানীয় নির্বাচনের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটি বিবেচনায় না নিলে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা।
বিএনপি-নেতারা যেমন দলীয় পরিচয়ের বাইরে নির্বাচন করার কথা বলেছে তেমনি সরকারি দলের মনোনয়নবঞ্চিত কারও কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আভাস মিলেছে গণমাধ্যম সূত্রে। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুইটি দলীয় পরিচয়ে না করার সিদ্ধান্তের আলোকে এখানে প্রচুর প্রার্থীর সমাগম হবে বলে ধারণা করা যায়। সবকিছু মিলিয়ে সামনের উপজেলা নির্বাচনটি শত ফুল বিকশিত হওয়ার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠার সম্ভাবনা দেখছি আমরা। বিকশিত শত ফুলের মধ্যে সবচাইতে সুন্দর ফুলটিই বিজয়ী হবে। ফুল বড় নির্মল এবং পবিত্র। একে কলুষিত করা কারও উচিৎ হবে না।