উপবৃত্তির টাকা তুলতে পারছেন না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার বিভিন্ন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে জটিলতার সন্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি বছর ২১০০ টাকা উপবৃত্তি পেয়ে থাকেন।
আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের নির্দেশনা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে টাকা প্রাপ্তির ম্যাসেজ আসলেও টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষসহ নানা স্থানে ধরনা দিচ্ছেন। ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকার উপবৃত্তির টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু অনেকেই ম্যাসেজ পেলেও পিনকোড বলতে না পারার কারণে ব্যাংকে বা এজেন্টের দোকানে গিয়ে শিক্ষার্থীরা টাকা তুলতে পারছেন না। আবার বহু শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকার ম্যাসেজ আসেনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, কারো মোবাইল ব্যাংকিং এ ম্যাসেজ এসেছে আবার অনেকেই এখন পর্যন্ত ম্যাসেজ পাননি। এই সমস্যা সারা জেলা জুড়েই দেখা দিয়েছে। উপবৃত্তির টানা না পেয়ে দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়েছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমস্যা নিরসনে শিক্ষার্থীদের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠান।
তবে ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এর সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফশিউল আলম বলেন,‘উপবৃত্তির টাকা তুলতে মোবাইল ব্যাংকিং-এর কোন সমস্যা নেই। সমস্যা শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদকরণে। যাদের তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ করা হয়েছে, তাদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর একাউন্টে চলে এসেছে। অনেকের সিম হারিয়েছে, সিম পরিবর্তন করেছেন বা অন্যের সিমের মাধ্যমে একাউন্ট খোলেছিলেন, এরকম শিক্ষার্থীর কিছু সমস্যা রয়েছে। টাকা প্রদানে ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং-এর সফটওয়ারের কোন ধরনের সমস্যা নেই। ’
দিরাই ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ দাস বলেন,‘ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির একাউন্ট মোবাইল ব্যাংকে। উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং-এ নাকি কিছু সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর সমস্যা ছিল, তা সমাধান হয়েছে।’
জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,‘ শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পায়। কিন্তু এই টাকা পাওয়া নিয়ে বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে। ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী আমার কাছে অভিযোগ করেছে তাদের একাউন্টে টাকা এসেছে কিন্তু টাকা উত্তোলন করতে পারছে না। কি কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না। ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সুনামগঞ্জ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কিছু তথ্য নাকি তাদের সফটওয়ার থেকে মুছে গেছে। মুছে যাওয়া তথ্যগুলো আবারো ফরম পূরণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের পর শিক্ষার্থীরা টাকা পাবে। ’
দিরাই বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস তালুকদার বলেন,‘শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে প্রতি বছরই কিছু সমস্যা হয়। এবছরই অনেক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তোলতে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে। কারো মোবাইল ফোনে টাকার ম্যাসেজ এসেছে, আবার কারো ম্যাসেজ আসেনি। ’
ছাতক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দ্বাদশ শ্রেণির ১৯৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা এখন পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে। কেন তারা উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে না তা প্রতিদিনই জানতে চায়।
দোয়াবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন,‘ দ্বাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী গত কয়েকদিন আগে আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদেরকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছেন কেউ কেউ পিন নাম্বার হারিয়েছেন, আবার অনেকের টাকা এখন পর্যন্ত আসেনি। ’