উপযোগিতাহীন মুসলিমপুর গ্রামের কালভার্ট

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামের ভেতরে পুরাতন মরা ধোপাজান খালের উপর কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মিত কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট নেই। এই কারণে কালভার্ট ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রামের প্রায় ১২শ’ পরিবার। দুই পাড়ার মানুষের সহজ যোগাযোগ রক্ষায় কালভার্টের উভয় পাশে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের দাবি গ্রামবাসীর।
সরেজমিনে গেলে এই প্রতিবেদককে মুসলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রাশিদ মিয়া, হামদু মিয়া, শুকুর আলী, আবুল কাশেম, আলাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল খায়ের, ইসমাইল হোসেন, আবু হানিফা, মুর্শেদ আলী, মুজিবুর রহমান, কামাল মিয়া, রাজ্জাক মিয়া, খলিল মিয়া, হাফিজ উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, গ্রামের ভেতরে খালের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে একটি পাড়া, অপরটি রয়েছে পূর্ব পাড়ে। দুই পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে পুরাতন মরা ধোপাজান নদীর নালা আকৃতির একটি খাল। দুই পাড়ার বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগ রক্ষায় বাইপাস সড়ক হিসাবে এই খালের উপর কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩ বছর আগে। এই সময় নির্মিত কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করা হয়নি। তবে কাজ চলাকালীন সময়ে মাটি ভরাটের জন্য বাঁশের মাচান বাঁধা হয়েছিল। কিন্তু মাটি ফেলা হয়নি। সংযোগ সড়ক না থাকায় জন চলাচলে কালভার্টটি কোনো কাজে আসছে না। কচুরিপানায় আবৃত্ত হয়ে আছে বাঁশের মাচান ও নির্মিত কালভার্ট। এই কাজের বরাদ্দের টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
গ্রামের বাসিন্দা আলাল উদ্দিন, চান মিয়া ও বাচ্চু মিয়া বলেন,‘খালের উভয় পাড়ে রয়েছে পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, আবুবকর সিদ্দিক মাদ্রাসা, মুসলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আলীম-ওলামা সহ স্কুল ও কলেজে এবং মাদ্রাসায় পড়–য়া হাজারো শিক্ষার্থী। খালের উপর এই বাইপাস সড়ক নির্মাণ হলে দুইপাড়ার বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি হবে। মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমে আসবে এবং উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।’
মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া ও ইলিয়াস মিয়া বলেন,‘আমাদের এলাকায় কোনো কাজ হলে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়না। কে কী ধরনের কাজ করেন তা জানার সুযোগ থাকে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই জন্য কালভার্টের কাজ শুরু হয়ে আর শেষ হলো না। কালভার্টের যতটুকু কাজ হয়েছিল তা খুবই নি¤œমানের। আমরা গ্রামবাসীরা মনে করি এই বাইপাস সড়কের বরাদ্দের টাকা লুটেপুটে খেয়েছে দায়িত্বশীলরা। তা তদন্ত করে দেখার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন,‘আমি মুসলিমপুর গ্রামের ভেতরে পুরাতন মরা ধোপাজান নদীর খালের উপর কালভার্ট ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলাম। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বরাদ্দ এসেছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এই বরাদ্দ ছিল উপজেলা এলজিইডি’র। তখন আমি সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ৫০ হাজার টাকার বিলও তোলেছি। অন্য কাজ করেছে উপজেলা এলজিইডি। তবে কাজটি হয়েছে বর্তমান ইউপি সদস্য ইউনুস মিয়ার অধীনে।’
সুুরমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ সাত্তার বলেন,‘আমার ইউনিয়নে কাজ হয়েছে কিন্তু আমাকে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। এই কাজে কেউ দুর্নীতি করে থাকলে তা খুঁজে বের করে উর্ধতন কর্র্তপক্ষের দ্বারা এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ।’
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,‘আমি বিষয়টি খুঁজে দেখবো।’