উপশহর প্রকল্পে প্লটের মূল্য পুনর্বিবেচনা করুন

আব্দুজ জহুর সেতুর পশ্চিম-উত্তর পাশে ১৬.৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে উপশহর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে। বিভিন্ন আকৃতির ১৫৪ টি আবাসিক প্লট নির্ধারণ করা হয় এই প্রকল্পে। এর বাইরে রয়েছে কিছু বাণিজ্যিক প্লট। আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি ৪ লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ১৫৪টি প্লটের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি প্লটের ক্রেতা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ৫৯টি প্লট এখন পর্যন্ত বরাদ্দের বাকি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সনের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। ইতোমধ্যে ওই মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্প এলাকার মাটি ভরাটের কাজই শেষ হয়নি। মাটি ভরাটের পর রাস্তা, ড্রেনেজ লাইন ও কালভার্ট নির্মিত হবে। সব কাজ শেষ হতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মতেÑ আরও এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে যে গতিতে কাজ চলমান রয়েছে সেই জায়গায় গতি সঞ্চার করা সম্ভব না হলে এই এক বছর কয় বছরে গিয়ে ঠেকবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্লট গ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যারা এখানে প্লট কিনেছেন তারা নিশ্চয়ই জায়গা খালি ফেলে রাখার জন্য প্লট কিনেননি। আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি গড়ার ইচ্ছা নিশ্চয়ই তাদের রয়েছে। প্লট গ্রহীতাদের বসতি গড়ার ইচ্ছাটিও তাই এখন ঝুলে পড়েছে। কাজের এই ধীর গতি নিশ্চিতভাবে বরাদ্দের বাইরে যেসব প্লট রয়েছে সেগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত নির্ধারিত কাজ শেষ করে বরাদ্দপ্রাপ্তদের প্লট বুঝিয়ে দেয়া।
বিভিন্ন শহরে উপশহর গড়ে উঠলেও সুনামগঞ্জে এরকম প্রকল্প এটিই প্রথম। অনেকেই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় নিজের একটি বাড়ি করতে চান। ফলে উপশহর প্রকল্পে একটি প্লট পাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেকের। কিন্তু প্রকল্পের ধীর গতির জন্য এখন মানুষের উৎসাহ অনেকখানি কমে গেছে। তাছাড়া আবাসিক প্লটের গড়পড়তা যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটিও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। এখানে যেকোনো স্থানে যেকোনো আকারের প্লটের ক্ষেত্রেই প্রতি কাঠার মূল্য ৪ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এখানে প্লটের অবস্থান ও আকৃতিগত সুবিধাকে বিবেচনা করা হয়নি। ভাল অবস্থান ও এর চাইতে একটু মন্দ অবস্থানে অবস্থিত প্লটের একই মূল্য থাকায় শেষ দিকে ক্রেতার আগ্রহ কমে গেছে বলে অভিমত প্রকাশ করছেন অনেকে। এই অভিমত যুক্তিসংগত। কারণ অবস্থান ও আকার ভেদে সব জমির মূল্য এক হারে হতে পারে না। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।
উপশহরে যারা প্লট কিনতে আগ্রহী তারা নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক। এদের হাতে অঢেল টাকা-পয়সা সঞ্চিত থাকে না। অনেক কষ্ট করে একটুখানি মাথা গোঁজার ঠাই করতে এরা টাকা জোগার করে একটি প্লট কিনেছেন। তাঁদের চোখে নিজস্ব ঠিকানা গড়ে তোলার স্বপ্ন। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব ক্রেতাকে প্লট বুঝিয়ে দেয়া প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। উপশহরের কাজ দ্রুত শেষ করে মূল্য পুনঃ নির্ধারণ করা হলে অবশিষ্ট প্লটগুলোর জন্য আগ্রহী ক্রেতা পাওয়া যাবে। একটি প্রকল্পের কাজ যদি সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়ে পরিকল্পিত ও সুন্দর আবাসিক এলাকা গড়ে উঠে তাহলে অনুরূপ আরও প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সরকার নি¤œবিত্তদের জন্য আরেকটু সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসিক প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে পারেন কিনা সে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। দেশের নাগরিকদের নিজস্ব ঠিকানা গড়ে দেয়া সরকারের অন্যতম অভিপ্রায়। উপশহর বা এ ধরনের আবাসিক প্রকল্প সরকারের ওই অভিপ্রায় বাস্তবায়নের অংশ। তাই আমরা এই ধরনের ভাল প্রকল্পের সুষ্ঠু ও সুন্দর অগ্রগতি কামনা করি।