উৎসবে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন করেছে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে পিছিয়ে যায়। করোনার কারণে ৩ বছর পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব। তিন বছর সময় পেয়েও অনুষ্ঠান গোছাতে পারেন নি উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো শৃঙ্খলা ছিলো না। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব। বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানান অনেক শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ৯ টার র‌্যালি শুরু হয় সাড়ে ১১টায়।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে রেজিষ্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড ও ফিতা বিতরণ করার সময় দেখা দেয় অব্যবস্থাপনা। যে যার মতো পেরেছে আইডি কার্ড নিয়ে গেছে। এসময় রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া অনেকে আইডি কার্ড নিয়ে যায়। যার কারণে রেজিষ্ট্রেশনকৃত অনেকেই আইডি কার্ড ও ফিতা পাননি। একই অবস্থা ছিলো দুপুরে খাবার বিতরণের সময়। কেউ খাবার পেয়েছে, কেউ পায়নি। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ রেজিষ্ট্রেশনকৃতদের ম্যাগাজিন ও ক্রেস্ট বিতরণ করতে গিয়েও হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। অনেকে এই উপহার না পেয়ে ফিরে গেছেন। বাধ্য হয়ে উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এসে মাইকে ঘোষণা করেন যারা পান নি তারা যেন মন খারাপ না করেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বললেন, প্রোগ্রামের কোনো কিছুতেই শৃঙখলা ছিলো না। ব্যবস্থাপনার চরম ঘাটতি ছিলো।
শিক্ষার্থী সহিদুজ্জামান বললেন, কথা ছিলো রেজিষ্ট্রেশন কার্ড দেখালে মিলবে টোকেন। সেই টোকেনে পাবো খাবার সহ যাবতীয় সবকিছু। কিন্তু খাবার দাবার দূরের কথা, কোথায় কোন জায়গায় টোকেন পাওয়া যাবে, সেটা বুঝাও মুশকিল ছিলো।
সাবেক শিক্ষার্থী আদনান হোসেন পলিন বলেন, খাবার নাই পেলাম। কিন্তু স্মৃতি হিসেবে রাখার জন্য ম্যাগাজিন আর ক্রেস্ট পাবো আশা করে এসেছিলাম। কোনো কিছুই পেলাম না। রেজিষ্ট্রেশনের টাকা জলে গেলো। এতো বড় আয়োজনে এমন অবস্থা অকল্পনীয়।
এ ব্যাপারে প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসবের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মনিষ কান্তি দে মিন্টু বলেন, আমাদের অনুষ্ঠান সফল হয়েছে। মানুষ বেশি হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র পান নি। তবে বঞ্চিত হবে না, সকলকেই স্মরণিকা দেওয়া হবে।