এই আনন্দ যেন থেমে না যায়….

বিশেষ প্রতিনিধি
কেউ বা ভালবাসে, কেউ পারিবারিক সিদ্ধান্তে একই ছাদনাতলার বাসিন্দা হয়েছিলেন। সংসার করেছেন, সন্তান-সন্ততিও আলোকিত করেছিল নিজেদের ঘর। কিন্তু সামান্য ভুল বুঝাবুঝিতে পারিবারিক আনন্দে ভাটা পড়েছিল তাদের। মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে যন্ত্রণা ভোগ করেছেন বহুদিন। বুধবার এমন অসহায় ৪৫ দম্পত্তিকে আপোস মিমাংসায় মিলিয়ে দিলেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিচারক মো. জাকির হোসেন। আদালতের কর্মীরা মিষ্টিমুখ করিয়ে, ফুল হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দিলো তাদের। এর আগেও চার দফায় ১৯৭ দম্পত্তির সংসারে সুখের হাওয়া বইয়ে দিয়েছিলেন এই বিচারক।
নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি, আর্থিক কষ্টে পড়ে একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর যুগল জীবন বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হতাশায় ছিলেন তারা। যৌতুকসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের নানা ধারায় স্বামীর উপর মামলা করে ঘুরছিলেন আইনজীবী ও আদালতের বারান্দায় বারান্দায়। মামলার তারিখে তারিখে আসা যাওয়ায় ক্লান্ত ছিলেন তারা। কেউ কেউ অভাবে অনটনের সংসারের ঘানি টানতে মহাবিপদে পড়েছিলেন। এই দম্পত্তিদের কষ্টের দীর্ঘশ^াস ছিল মর্মস্পর্র্শি। আদালতের বিচারক সেটি অনুভব করে এসব দম্পত্তিদের মধ্যে আপোসের উদ্যোগ নেন। সন্তানদের ভবিষ্যত এবং নিজেদের মঙ্গলের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন এঁটে দিলেন বিচারক। ৪৫ যুগলের মিলনে যেন মহামিলনের আনন্দ ছড়িয়ে দেয় আদালত পাড়ায়। এই উদ্যোগে বাদী-আসামী, বিচারালয়ের কর্মী সকলেই খুশি।
ছাতকের রাজগাঁওয়ের মাহমুদা আক্তার ও তার স্বামী একই উপজেলার কুমারদানীর মেহেদী হাসান জানালেন, ছোটখাটো ভুল বুঝাবুঝি থেকে সংসার জ¦লে-পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। এই আগুন নেভানোর উদ্যোগ নেয় নি কেউ। শেষ পর্যন্ত মামলায় গড়ায়, তাতে দূর”ত্ব আরও বাড়ে। আদালত সেই কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়েছেন। নিজেদের ভীষণ খুশির কথা জানিয়ে এই দম্পত্তি বললেন, আদালতের এই উদ্যোগের কথা চিরদিন মনে রাখবো আমরা। একই ধরনের মন্তব্য করলেন ছাতকের আলমপুরের হোছনা বেগম ও তার স্বামী সিলেটের বিশ^নাথের চাঁনপুরের রহিম আলীসহ অনান্য দম্পত্তিরাও।
জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমদ বললেন, সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের প্রথম ইউনিট পরিবারই যদি বিশৃঙ্খলার বেড়াজালে ধ্বংস হয়, পারিবারিক কলহের কারণে ছোট ছোট শিশুরা যদি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অযতœ অবহেলায় বেড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিপতিত হবে। আদালতের উদ্যোগের ফলে দ্র”ত মামলা নিষ্পত্তি হবে। সন্তানরা তাদের বাবা মা উভয়ের সান্নিধ্য পাবে। শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হবে পরিবারে।
সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বললেন, নির্যাতিত নারীদের মামলা দ্র”ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমাজ বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন বিচারক। এরফলে বিচারপ্রার্থী জনগণ দ্র”ত ন্যায় বিচার পাচ্ছেন এবং মামলা জটও কমছে।
প্রসঙ্গত. একই আদালতের বিচারক এর আগে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৪৭, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি ৩৫, ২১ ফেব্র”য়ারি ৬৫ এবং ২০২২ সালের ১৪ মার্চ ৫০ দম্পত্তির বিরোধ মিটিয়ে দাম্পত্য সুখ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।