একাত্তরের নায়ক মালু মিয়া

কুমার সৌরভ
শনিবার ২৬ নভেম্বর খাগুরার মুক্তিযোদ্ধা ছলিম উল্লার বাড়ি থেকে ফিরে শহরে এসে অভ্যাসবশত মধ্যবিত্তে ঢু মারি। সেখানে দেখা খসরু ভাইর (মুক্তিযোদ্ধা-লেখক আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু) সাথে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোত্থেকে আসলাম। বললাম। তিনি জানতে চাইলেন, কী ধরনের লিখা লিখছ? ‘কারেকটার বেইজড’ আমি বললাম। খসরু ভাই তখন মালু মিয়ার কথা বললেন। বললেন, মালু মিয়াকে ইন্টারভিউ কর। বহু কাহিনি পাবে। মালু মিয়াকে খবর দিলেন তিনিই। তাঁর খবর পেয়ে মালু মিয়া বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর শহরে আসলেন। ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে। মুখোমুখি হলাম এক অশীতিপর বৃদ্ধের সাথে আমি আর মালেক পীর। টানা চার ঘণ্টা কথা বলেও তার যুদ্ধের কাহিনি শেষ হয় না। আমার ও মালেক ভাইর বাসায় ফেরার তাড়া। তাই শেষ দিকে কাহিনির ডিটলসে না গিয়ে শুধু টাচ দিয়ে গেলাম। চার ঘণ্টার এই আলোচনার নির্যাসই এই লেখা। মুক্তিযোদ্ধা মালু মিয়ার কথা।
মালু মিয়ার কাছে বয়সের কথা জানতেই অবলীলায় বললেন ৯০ বছর। চেহারার ভাজ ও শরীরের কাঠামো দেখে তাঁকে যথেষ্ট বয়স্কই মনে হলো। তার মানে ৪৫ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বয়স যদি পাঁচবছর কমও হয়ে থাকে তাহলেও মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর বয়স ছিলো ৪০ বছর। বয়সের ভারে ন্যুজ্ব হলেও তেজ তাঁর এতোটুকু কমেনি। প্রতিটি ঘটনার বর্ণনা দিতে চাইছিলেন বিস্তারিতভাবে, গল্পের মতো। কিন্তু আমরা মাঝে মাঝেই তাঁকে থামাই। ব্রেক ধরার মতো। তখন তিনি হাতের লাঠিটি যা তার নিজেরই বানানো, রাইফেলের বাট আকৃতির হাতল বিশিষ্ট সেই লাঠি উঁচিয়ে বলেন, সবকিছু না বললে বুঝবাইন কেমনে? আমরা হাসি তাঁর তেজ আর মনোবল দেখে।
মালু মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বালিকান্দা গ্রামে। সুরমা ইউনিয়নে ওই গ্রাম। সুরমা পেরিয়ে বেলাবরহাটির কাছেই। গ্রামের অধিকাংশ লোকই বহিরাগত। কৃষি জমি আবাদের উদ্দেশ্যে যারা উনিশ শতকের ত্রিশ চল্লিশ দশক কিংবা তারও আগে অত্রাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন মালু মিয়া তাদেরই একজন। তাঁর পিতা মরহুম রহিম উদ্দিন ৮৭ বছর আগে কুমিল্লা জেলার মতলব উপজেলার সাপুর থেকে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। মালু মিয়া নিতান্তই শিশু তখন।
খসরু ভাইর মুখে শুনেছিলোম মালু মিয়া দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু অপারেশন করছেন। দুই দুইবার যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হয়েছেন। শহরে পাকবাহিনির সাথে লড়াকু জনতার প্রথম প্রতিরোধে মালু মিয়া ছিলেন রাইফেল হাতে। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রায় নিরক্ষর। এত শৌর্য্য-বীর্য কোথায় পেলেন তিনি? এর উত্তর জানতে ব্যক্তির জীবন পাঠ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই মুক্তিযোদ্ধা মালু মিয়াকে জানতে আমাদের প্রবেশ করতে হয় তাঁর জীবনের সূচনালগ্নে। মালু মিয়া প্রথম জীবনে সুতায় রঙ দেয়ার কাজ করতেন কুমিল্লায়। এর পর ঢাকেশ্বরী কাপড় মিলে চাকুরি করেছেন বছর সাতেক। এরপর আসেন বাড়িতে। তখনই ঘটে তার জীবনের মোড় ফেরানো সেই ঘটনা যা তাকে এখনও প্রতিক্ষণ দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে।
কুড়–তলার মরম ডাকাতের পাল্লায় পড়ে এসময় মালু মিয়া নাম লেখান ডাকাত দলে। মরম মিয়ার ছিলো ১৫ জনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দল। মালু মিয়া ওই দলের কনিষ্ট সদস্য। হাতে তুলে নিলেন কাটা বন্দুক। বন্দুক কীভাবে চালাতে হয় শিখিয়ে দিলেন সর্দার মরম। তিন বছর ঘৃণ্য এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ডাকাতি করেছেন বিভিন্ন জায়গায়। ধরা পড়েন নি কোথাও। ডাকাতির জীবন ভিতরে ভিতরে কুড়ে খাচ্ছিল তাঁকে। ভীষণ অনুতাপে দগ্ধ হতেন নিরবে। এক রাতে স্বপ্ন দেখেন তার মরহুম বাবা ধমক দিয়ে বলছেন তাকে, এই মালু এসব কী করছিস তুই? মানুষের অভিশাপে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাবি তুই। ছেড়ে দে বাবা এসব পাপের কাজ। বাবার স্বপ্নাদেশ মালু মিয়াকে নাড়া দেয় ভীষণভাবে। ছেড়ে দিলেন ডাকাতি। অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পেরে মালু মিয়ার মনেও নেমে আসে শান্তি।
ডাকাতি তো ছাড়লেন এবার করবেন কী। আনসার ক্যাম্পে যোগ দিয়ে ট্রেনিংয়ে গেলেন। ৯ দিন ট্রেনিংয়ের মাথায় কঠিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলেন। ট্রেনিং আর শেষ করা হলো না। ফিরে এলেন বালিকান্দা। টুকটাক মিস্ত্রির কাজ জানা ছিলো। ওই বিদ্যা সম্বল কলেই লেগে পড়লেন কাঠ মিস্ত্রির কাজে। মানুষের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ঘরের কাজ আসবাবপত্র তৈরির কাজ করে সংসার চালানো শুরু করলেন। পরিশ্রম ও হালাল রুজির জীবনে ফিরে তার তখন প্রচুর আনন্দ তার। একসময় বাড়িতেই আসবাবপত্র বানিয়ে বিক্রি করা শুরু করলেন। এভাবেই সুখে শান্তিতে চলছিল মালু মিয়ার শ্রমিক জীবন। নির্ঝঞ্ঝাট।
এরই মাঝে ঝড়ের পূর্বাভাস এলো। সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার কাজে নিয়োজিত হলেন যুবক মালু মিয়া। আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়েও যখন ক্ষমতায় যেতে পারলো না তখন অন্য অনেকের মতো মালু মিয়াও বুঝে গেলেন যুদ্ধ ভিন্ন স্বাধীনতা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন পথ নেই।
২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যা আর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পরই সুনামগঞ্জে চলে আসে এক জীপ পাক আর্মি। অবস্থান নেয় শহরের পুরাতন সার্কিট হাউসে। স্থানীয় মুক্তিপাগল জনতা পাক আর্মিদের প্রতিরোধে সংঘবদ্ধ হয়। প্রতিরোধে যোগ দেয় ইপিআর ও আনসার। নদীর উত্তর পাড় থেকে দলে দলে শহরে ঢুকেন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর মুক্তিকামী জনতা। মালু মিয়াও সেই দলে ছিলেন। ২৮ মার্চ ১৯৭১। সুরমা পেরিয়ে শহরে ঢুকেই মালু মিয়া দেখা পেলেন বালিকান্দির আনসার দানুর বাপের (নাম মনে করতে পারেননি তিনি) সাথে। দানুর বাপের হাতে দুইখানি রাইফেল। মালু মিয়া তাকে বললেন, আমাকে দাও একটি। পাক আর্মি মেরে আসি। দানুর বাপ বললেন, তুমি রাইফেল চালাতে জান? মালু মিয়া বললেন, জানি। তখন দানুর বাপ মালু মিয়াকে একটি রাইফেল দিলেন। রাইফেল নিয়ে তিনি উকিলপাড়ার লম্বা বাসায় পজিসন নেন। সার্কিট হাউস লক্ষ্য করে গুলিও করেন । অন্যরাও গুলিবর্ষণ করে। ওখানে থেকে সুবিধা হবে না মনে করে মালু মিয়া লম্বা বাসা ছেড়ে চলেন আসেন গার্লস স্কুলে। একটি কক্ষে দেখতে পান আনসার কমান্ডার আবুল হোসেন রয়েছেন, তার হাতেও রাইফেল। আবুল হোসেন ঘরের জানালার গ্লাস ভেঙে সার্কিট হাউসের দিকে গুলি করার জন্য তখন পজিসন নিচ্ছেলেন। মালু মিয়াও ঢুকে গেলেন ওই কক্ষে। আবুল হোসেন যখন গুলি করার নিশানা করছিলেন তখনই পাক আর্মির একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় তার মাথায়। ছিটকে মগজ বেরিয়ে আসে আবুল হোসেনের। লুটিয়ে পড়েন মেঝেতে। স্বাধীনতার বেদীমূলে ওই দিনের এবং সুনামগঞ্জের দ্বিতীয় শহীদ হিসাবে আত্মাহুতি দিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। আবুল হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ায় মালু মিয়া বুঝে গেলেন গার্লস স্কুল পাক আর্মির লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছে। ওখানে থাকা নিরাপদ হবে না। তিনি আবারও লম্বাবাসার অবস্থানে ফিরে আসেন। বিকেলে বাড়ি ফিরেন তিনি। ২৯ মার্চ পার্ক আর্মির পলায়নের খবর পেলেন বাড়িতে বসেই।
বেশ কিছুদিন গেল নিরিবিলি। এরই মাঝে একদিন শুনলেন পাক আর্মি আবার শহরে এসে ঘাটি গেঁড়েছে। তাদের একটি দল নাকি সুরমা নদী পেরিয়ে কৃষ্ণতলায় অবস্থান নিয়েছে। এরকম অবস্থায় কী করা উচিৎ বুঝতে পারছিলেন না মালু মিয়া। বিরাপুরের বাদশা মিয়ার কাছে গেলেন। বাদশা মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। বাদশা মিয়া তাকে বর্ডারের দিকে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার পরামর্শ দিলেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন মালু মিয়া। হ্যাঁ, যুদ্ধই একমাত্র কর্তব্য। মা, স্ত্রী ও ১ ছেলেকে রেখে আসলেন দোয়ারাবাজারের লক্ষ্মীপুরে মামার বাড়িতে। এরপর রওয়ানা দিলেন বালাট অভিমুখে।
কাংলার হাওরের উত্তর পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। কাংলার হাওরের বিলে একটি খোলা নৌকা দেখা গেল। কয়েকজন লোক। সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। মালু মিয়া বুঝলেন ওরা মুক্তিযোদ্ধা। নৌকা আরেকটু কাছে আসলে তিনি দেখলেন পরিচিত এক আনসারকে। তিনি শুনতে পেলেন ওই আনসারটি নৌকায় থাকা আরেকজনকে বলছে, ওই যে মালু মিয়া যায়। নৌকা থেকে তাকে থামতে নির্দেশ দেয়া হলো। থামলেন মালু মিয়া। নৌকা এসে ভিড়ল তার কাছে। নৌকার নেতা গোছের লোকটি নাম জিজ্ঞাসা করলেন। মালু মিয়া নিজের নাম বললেন। তখন ওই ব্যক্তিটি শ্লেষভরা কণ্ঠে বললেন, তুমি চোরা মালু? রেগে গেলেন মালু মিয়া। গলা চড়িয়ে উত্তর দিলেন, না চোরা মালু নই আমি, আমি ডাকাত মালু। সরাসরি এরকম মুখের উপর জবাব পেয়ে খেপে গেলেন নেতা। হুকুম দিলেন ওকে ধরো। মালু মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার নামে একটি গুলি বরাদ্দ করা হলো। দমলেন না মালু মিয়া। বললেন, আমার জন্য কেন একটি গুলি খরচ করবেন। ওইটি পাঞ্জাবির জন্য রাখুন। তাতে দেশের লাভ। আমাকে যুদ্ধে নিন। কী ভেবে জানি নেতা নরোম হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন, ওঠ নৌকায়। মালু মিয়া নৌকায় চড়লেন। তিনি গন্তব্য পেয়ে গেছেন। নিয়তিই বোধ করি তাকে এখানে নিয়ে এসেছিলো। নৌকায় উঠার পর জানলেন নেতার নাম হীরা। আনসারের হাবিলদার ছিলেন তিনি। বাড়ি ময়মনসিংহ। কথায় কথায় হৃদ্যতা বাড়ে নেতার সাথে মালু মিয়ার। মালুকে ছেলে বানিয়ে ফেললেন হীরা মিয়া। মালু শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ালেন। শুরু হলো যুদ্ধের ময়দানে দেখা এই পিতার সাথে নতুন যাত্রা। এই যাত্রার উদ্দেশ্য রক্ত নেয়া। পাক আর্মির। রাজকার-আলবদরের। দেশ স্বাধীনের জন্য যে এক সাগর রক্ত দরকার। ওই রক্তগঙ্গায় মিশে যেতে পারে নিজের শরীরের শোনিত ধারাও।
ভৈষারপাড়ের কাছে বালুচরে নৌকা থামলো। ওখানে হীরা মিয়ার বাংকার। খাওয়া-দাওয়া সেরে হীরা হাবিলদার তাকে নিয়ে সি কোম্পানির হেডকোয়ার্টার নারায়ণতলার আজাফর মোড়লের বাড়িতে এলেন। তখন সি কোম্পানির কমান্ডার এনামুল হক চৌধুরী। হীরা মিয়া কমান্ডারকে বললেন, ছেলেটি যুদ্ধ করতে চায়। কমান্ডার এনাম চৌধুরী বালাট গিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য নাম লিখাতে বললেন মালু মিয়াকে। মালু মিয়া বললেন, স্যার আমার ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন নেই। আনসার ট্রেনিং নেয়া আছে আমার। রাইফেল চালাতে জানি। এই কথা শুনে এনাম চৌধুরী মালু মিয়ার অস্ত্র চালানোর পরীক্ষা নিলেন। তার হাতে রাইফেল দিয়ে দূরের একটি মাটির ঢেলা দেখিয়ে টার্গেট করতে বললেন। টার্গেট স্থির করলেন মালু। কমান্ডারের আদেশ হলো, ফায়ার। দ্রিম। ফায়ার করলেন মালু। মাটির ঢেলায় গুলি লাগাতে সক্ষম হলেন তিনি। সাবাস বলে পিঠ চাপড়ে দিলেন কমান্ডার। ক্যাম্পে ছিলেন পুলিশের নায়েক ছুরত আলী নামের এক মুক্তিযোদ্ধা। ছুরত আলীকে কমান্ডার দায়িত্ব দিলেন মালু মিয়াকে গেরিলা যুদ্ধের কায়দা কানুন, গ্রেনেড ছুড়া, ব্রিজ ভাঙ্গা, এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করা এসব বিষয়ে ট্রেনিং দেয়ার। অদম্য উৎসাহে ট্রেনিংয়ে লেগে পড়লেন মালু। দিন দুয়েকের মধ্যেই মালু মিয়া প্রাথমিক কলাকৌশলগুলো মাথায় ঢুকিয়ে নিলেন। ছুরত আলী রিপোর্ট করলেন, এই ছেলেটি পারবে। ওর দারুণ সাহস আছে। প্রস্ততি শেষ। এখন অপেক্ষা শত্রুর বুকে রাইফেল তাক করা। গ্রেনেড চার্জ করা। বাংকার উড়িয়ে দেয়া। মালু মিয়া উত্তেজনায় থরথর।
কমান্ডার এনাম মালু মিয়াকে যুদ্ধপিতা হীরা হাবিলদারের দলেই পাঠিয়ে দিলেন। ফিরে আসলেন সেই বালুচরে। প্রথম অপারেশনের দায়িত্ব পড়লো রঙ্গারচর গ্রামের এক দালালকে ধরে আনতে। পাঁচজনের দলসহ রওয়ানা হলেন মালু মিয়া। রাতের অন্ধকারে দালাল ময়না মিয়াকে পাকড়াও করে ক্যাম্পে নিয়ে এলেন। ময়না মিয়ার দু’নলা বন্দুকটিও কবজা করলেন। ধৃত আসামীসহ ফিরে এলেন ক্যাম্পে। সফল হলেন প্রথম অপারেশনে।
দ্বিতীয় অপারেশন বালিকান্দিতে। এবারও দালাল ধরা। মরতুজা নামের ওই দালালকেও ঠিক মতো পাকড়াও করে নিয়ে এলো চার সদস্যের মালু মিয়ার মুক্তি দল।
এরকম কয়েকটি দালাল ধরার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করলেন মালু মিয়া। সাফল্যের আনন্দে ভাসছেন তিনি। চাইছেন আরও বড় কিছু। আরও কঠিন দায়িত্ব। পেয়েও গেলেন যুদ্ধজীবনের পঞ্চম অপারেশনে সেই দায়িত্ব।
সি কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে কমান্ডার এনাম চৌধুরী ডেকে পাঠালেন তাকে। দায়িত্ব দিলেন ষোলঘরের চান মিয়ার বাড়ির বাংকারে গ্রেনেড চার্জ করার। তিনটি গ্রেনেড দেয়া হলো তাকে। তিনি চেয়ে আরও একটি বাড়তি গ্রেনেড নিলেন। ষোলঘরের বাংকারে তখন প্রচুর পাক আর্মির অবস্থান। কমান্ডারের প্ল্যান ছিলো মালু মিয়া প্রথমে গিয়ে বাংকারে গ্রেনেড চার্জ করবেন। পাক আর্মিরা বাংকার ছেড়ে বেরিয়ে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফায়ার শুরু করবে। এভাবে ওই অবস্থানে পাক আর্মিকে দুর্বল করে দেয়াই ছিলো কমান্ডারের উদ্দেশ্য। গ্রেনেড নিয়ে দিনের বেলা রওয়ানা হলেন মালু মিয়া। একা। যুদ্ধজীবনের প্রথম বড় অপারেশনে। বৈষারপাড় আসতে বিকেল হয়ে গেল। অপেক্ষা করলেন ওখানে। রাত ১১টার দিকে হাওরের পানি সাঁতরে বাংকারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। মাথায় পাগড়ির মতো করে গামছা দিয়ে গ্রেনেড চারটি বেঁধে রেখেছেন। কচুরিপানা ভর্তি হাওরে শরীর ডুবিয়ে মাখা উপরে রেখে সন্তর্পনে এগোতে থাকলেন তিনি। বাংকারের কাছে আসার জন্য হাঁটার আরেকটি রাস্তা থাকলেও তিনি পানিপথকেই বেছে নিয়েছিলেন নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে। একেবারে বাংকারের কাছে চলে আসলেন। বাংকারের দিকে তাকালেন। একজনের কাশির আওয়াজ পেলেন। আবছা দেখতে পেলেন সেন্ট্রিকে। শব্দ লক্ষ্য করেই গ্রেনেড ছুঁড়ে দিলেন। তীব্র শব্দে বিস্ফোরিত হলো গ্রেনেড। বাতাসে ভেসে উঠল কারও আর্তচিৎকার। মালু মিয়া বুঝে নিলেন টার্গেট খতম। বাংকার থেকে ফায়ার শুরু করে পাক আর্মিরা। পাক আর্মিরা অনুমান করে নিয়েছিল আক্রমণ শুরু হয়েছে উত্তর দিক থেকে। তাই ওরা ওইদিকেই ফায়ার করতে থাকে। কিন্তু মালু মিয়ার অবস্থান ছিলো বাংকারের পূর্ব দিকে। বাংকার থেকে মাত্র পাঁচ গজ দূরত্বে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা দল কাভারিং ফায়ার শুরু করে। উভয় পক্ষের তুমুল গুলাগুলির ফাঁকেই মালু মিয়া রাস্তা পেরিয়ে বাংকারের পশ্চিম দিকে চলে আসেন। ওখানে একটি পুকুর ছিলো। চান মিয়া মাষ্টারের বাড়ির পাশে। পুকুরে নেমে গেলেন মালু মিয়া। তিনি দেখতে পেলেন বাংকারে ফিট করা মেশিনগানের ব্যারেল মাটির দুই ফুট উপরে পজিশন করানো। তিনি ভাবলেন মেশিন গানের গুলি মাটির দুই ফুট নীচে আসবে না। তাই ক্রলিং করে মেশিন গানের নরের নীচে চলে আসলেন। বাংকারের ভিতরে গ্রেনেড চার্জ করলেন। চিৎকার ভেসে আসে বাংকারের ভিতর থেকে। পাক আর্মি বাংকার ছেড়ে উঠে আসে। দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী মসজিদের দিকে পজিশন নেয়া শুরু করল তারা। আরেকটি গ্রেনেড ছুঁড়ে মারেন মালু মিয়া তাদের দিকে। মুক্তিযোদ্ধা দলের আক্রমণও সমান গতিতে চলছিল। মালু মিয়ার দায়িত্ব শেষ। এবার নিরাপদে পালানোর চিন্তা মাথায় আসে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের দিকে সরে আসতে শুরু করলেন। কিন্তু সমস্যা হলো মুক্তিযোদ্ধারা তখন কুপা গুলি করছিল। যেকোন সময় এর একটি বিঁধতে পারে তার শরীরে। মুক্তিযোদ্ধার গুলিতে মরতে চাইলেন না তিনি। আবার পিছিয়ে আসলেন। এবার আবার বাংকারের দিকে। কোনভাবে ষোলঘরের খোরশেদ মাষ্টারের বাড়িতে আসলেন। খোরশেদ মিয়া মুক্তি বাহিনীর পক্ষে গোপনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। খোরশেদ মিয়াকে ডেকে পানি খেলেন তিনি। জিজ্ঞাসা করলেন পালাানোর পথ কোনদিকে সুবিধা হবে। একটি পথ দেখিয়ে দিলেন খোরশেদ মিয়া। কর্দমাক্ত হালট। সেই হালট দিয়েই নিরাপদে ফিরে যান মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানে। ততক্ষণে ভোরের সূর্য ফুটে উঠেছে পূবের আকাশে। একটি ঘটনাবহুল যুদ্ধরজনী শেষে ভোরের সূর্য যেন বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে একটু বেশি লাল হয়েছিলো সেদিন। ওদিকে ভ্রƒক্ষেপ নেই মালু মিয়ার। এখন তাঁর দরকার বিশ্রাম। ঘুম। গভীর প্রশান্তির ঘুম।
মীরেশ্বরপুর যুদ্ধে প্রথম আঘাতপ্রাপ্ত হন মালু মিয়া। পাকবাহিনির মর্টারের গোলার আঘাত লাগে বুকে। বালাট মুুিক্তযোদ্ধা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ১০ দিন চিকিৎসা নিয়ে আবার ফিরে আসেন যুদ্ধের সদা রোমাঞ্চকর ময়দানে। ফিরলেন সি কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে। ৪/৬ দিন ক্যাম্পেই অবস্থান করেন। কোন অপারেশন ছিল না। এরই মাঝে একদিন ষোলঘর ও বেরীগাওয়ের মাঝে দুই দিকে পাঞ্জাবি ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গুলাগুলি শুরু হয়। ঘুমিয়ে ছিলেন মালু মিয়া ক্যাম্পে। ডেকে তুললেন কমান্ডার এনাম চৌধুরী। জিজ্ঞেস করলেন গুলাগুলির আওয়াজ পাচ্ছেন কি না। মালু মিয়া বললেন, পাচ্ছি তো। এনাম চৌধুরী তৎক্ষণাৎ তাকে ওই যুদ্ধে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ডারের নির্দেশই শেষ কথা। উঠে বসলেন মালু মিয়া। সামান্য সময়ে প্রস্তুত হয়ে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ রওয়ানা হলেন । মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরি করা পরিখা দিয়ে লাইন ধরে অগ্রসর হচ্ছিলেন তাঁরা। লাইনের সামনে দশ জন। পিছনে মালু মিয়া, মজলিশ ও আব্দুর রশিদ। মোগাই গাঙের পাড়ে একটি বাঁশ ঝাড় ছিল। ঝাড়ের নীচের মাটি সরে গিয়ে নদীর পানির উপরে ভাসছিল। ওখানেই অবস্থান করছিল এক পাক আর্মি। খেয়াল করেননি মুক্তিযোদ্ধা দল। সামনের দশ জনের মুক্তিযোদ্ধা দল নির্বিঘেœই বাঁশ ঝাড় পেরিয়ে গেল। মালু মিয়াও বাঁশ ঝাড় পার হয়ে কয়েক ফুট এগিয়ে গেছেন। এমন সময় প্রচ- আঘাত আসে তার হাঁটুর উপরে। বাঁশ ঝাড়ের পাক আর্মিটি দেখে ফেলেছিলো তাকে। রাইফেলের ব্যারেল দিয়ে প্রচ- শক্তিতে আঘাত করে। মাটিতে পড়ে যান মালু মিয়া। তার বগলে তখনও এসএমজি। গুলি লোড করা। আঙুল ব্যারেলে। মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই পাক আর্মিটি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর। সম্ভবত তার উদ্দেশ্য ছিলো মালু মিয়াকে জীবিত পাকরাও করে নিয়ে গিয়ে তথ্য আদ্য়া করা। তাই সরাসরি গুলি করেনি। পাক আর্মিটি তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়তেই মালু মিয়া ট্রিগার টিপে দিলেন। এক ম্যাগাজিন গুলি বেরিয়ে আসল ওই পাক আর্মির বুক বরাবর। পাকিস্তানি সৈন্যটি লুটিয়ে পড়ল মালু মিয়ারই শরীরের উপরে। নিথর হয়ে গেছে সে। এক ঝটকায় লাশটি সরিয়ে দৌঁড় দিলেন মালু মিয়া। ধান খেতে গিয়ে থামলেন। ক্রলিং করে সামনে এগুতে চাইলেন। এসময় পাক আর্মির মর্টারের গোলা আঘাত হানে তার বাম উরুতে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সহযোদ্ধা সোনা মিয়া ও আব্দুর রশিদ কাঁধে করে কোনমতে তাকে নিয়ে আসেন লালপানি বাজারে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কয়েকদিন পর সি কোম্পানির হেডকোয়ার্টারে আবারও ফিরে আসেন দ্বিতীয়বার মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পেয়ে।
অত:পর মালু মিয়াকে দিরাই অঞ্চলে পোস্টিং করা হয়। মালু মিয়া চলে আসেন যুদ্ধের নতুন ময়দানে। ততদিনে ভারতীয় বাহিনির আকাশ আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। বিপর্যস্থ কোণঠাসা পাকিস্তানি বাহিনি বুঝে নিয়েছে পরাজয় অত্যাসন্ন্। দিরাই থেকেই মালু মিয়া খবর পেলেন ৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনি সুনামগঞ্জ ছেড়ে গেছে। সুনামগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর সি কোম্পানির হেড কোয়ার্টার পাগলা বাজারের ডাকবাংলোয় সরিয়ে আনেন ক্যাপ্টেন এনাম চৌধুরী। মালু মিয়ারা পাগলা বাজারে এসে রিপোর্ট করলেন। স্বাধীন দেশে। বিজয়ী যুদ্ধা হিসাবে বিজয়ী অধিনায়কের কাছে।
এই হলো আমাদের অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা মালু মিয়ার রোমাঞ্চকর যুদ্ধজীবনের সংক্ষিপ্ত বয়ান। মালু মিয়া এখন বয়সের ভারে ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারেন না। হাতে লাঠি নিয়ে কোনভাবে চলেন। খুব স্বচ্ছল নয় তাঁর বর্তমান জীবন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে ভাতা পান সরকার থেকে তাই তাঁর সংসার চালানোর প্রধান সম্বল এখন। আশ্চর্যের ও দুঃখজনক সত্য হলো স্বাধীন বাংলাদেশে এক সময় এই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা কেড়ে নেয়া হয়। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতে একটু বেশি সম্মানী দেয়া হতো। বেশ অনেক বছর বন্ধ থাকে এই ভাতা। সারা দেশে অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তখন ছেটে ফেলা হয়েছিলো। এই সময়েই খসরু ভাইর সাথে তাঁর দেখা হয়। খসরু ভাই আগে থেকে চিনতেন না তাঁকে। কারণ মালু মিয়া বালাট সাবসেক্টরে আর খসরু ভাই বাঁশতলা সাবসেক্টরে ছিলেন। খসরু ভাইকে মালু মিয়া পুরো বিষয়টি খুলে বললেন। খসরু ভাই কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হলেন আসলেই তিনি যুদ্ধাহত। সি কোম্পানির কমান্ডার এনামুল হক চৌধুরীও বিষয়টি নিশ্চিত করে মালু মিয়াকে সহায়তা করতে খসরু ভাইকে অনুরোধ করেন। খসরু ভাই আইনি পথেই অগ্রসর হতে চাইলেন। সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে তিনি মালু মিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন সাবমিট করালেন। এধরনের অনেকগুলো রিট তখন হাইকোর্টে অপেক্ষমাণ ছিলো। সবগুলো রিট এক শুনানিতে নিষ্পত্তি করলেন হাইকোর্ট। রায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে গেল। অবশ্য আইনি এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সাত/আট বছর লেগে যায়। বকেয়া পুরো ভাতা পেলেন মালু মিয়া।
মালু মিয়ার শক্ত ও সাহসী জীবনের অন্য আরেক প্রান্তে অবস্থান এক শিল্পীত মনের। সেখানে সুর খেলা করে উদাসী বাতাসের মতো। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনিঃশেষ ভালবাসার এক বহমান মধু সমীরণ। খোঁজ পাই আমরা আলাপে। তিনি কোন এক প্রসঙ্গে আবেগে আপ্লুত হয়ে আমাদেরকে শোনালেন নিজের লেখা এই গানটি। যার ছত্রে ছত্রে মুক্তিযুদ্ধের কথা বঙ্গবন্ধুর কথা উঠে এসেছে অদ্ভূত সারল্যে। তিনি আপন মনে গাইলেন পুরো গানটি। আমরা তন্ময় হয়ে শুনলাম বয়সী শিল্পীর কণ্ঠে একেবারে নির্ভুল উচ্চারণে পতনহীন সুরে গাওয়া একটি গণসঙ্গীত। যে মালু মিয়া কথা বলার সময় আঞ্চলিক টান ছাড়তে পারেন না সেই মালু মিয়াই গান গাইবার সময় প্রমিত উচ্চারণরীতি কীভাবে অবলীলায় অনুসরণ করতে পারলেন তা ভেবে আমরা আশ্চর্য হই। এই মালু মিয়া যেন রাইফেল কিংবা গ্রেনেড হাতে দুর্ধর্ষ কোন যোদ্ধা নন। তিনি নিতান্তই এই আলো-হাওয়া আর কাদামাটিতে বেড়ে উঠা এক মরমী মনের গণসঙ্গীত শিল্পী। পরম শ্রদ্ধায় আমাদের মাথা নুয়ে আসলো। তাঁর গাওয়া গানটি হুবুহু নীচে উদ্ধৃত করা হলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বলেন সুনামগঞ্জে
যার যারও হাতিয়ার নিয়া দাঁড়াও বিপ্লব করিতে
আইলরে পাঞ্জাবি বাংলাতে।।
আইল রে পাঞ্জাবি দল রাজাকারও সাথে
মা বইনেরও ইজ্জত কাড়ি সব নিলো ভাই লুটিয়ে।।
আলবদরও সাথে সাথে আগুন লাগায় ঘরে
যত আছে মাল সাবানা সবই নিল ভাই লুটিয়ে।।
দোষ করেছেন জাতির পিতা
বিচার করেন তাকে
কোন আইনেতে কোন দলিলে মারও শিশু হইতে।।
সবে বলে জাতির পিতা
আসিলরে ঘরে
মালু মিয়ায় কয় ভাবিয়া
বুক ভাসায় নয়ন জলে।।
ব্যক্তিগত জীবনে মালু মিয়া ৪ ছেলে আর ২ কন্যা সন্তানের জনক।
আলাপ যখন শেষ তখন রাত সাড়ে নয়টা বেজে গেছে। তাঁকে ফিরতে হবে বাড়িতে। বালিকান্দা। লাঠি ঠুক ঠুক করে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের তিন তলা থেকে ছেলের হাত ধরে নামছেন তিনি। আমরা তাকিয়ে আছি এক চলন্ত ইতিহাসের দিকে। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস।
(০১.১২.২০১৬ খ্রি. তারিখে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর অফিসে মুক্তিযোদ্ধা মালু মিয়ার সাথে আলাপচারিতায় প্রাপ্ত তথ্যই এই প্রতিবেদনের তথ্য উৎস। অন্যকোন উৎস বা পুস্তক থেকে সহায়তা নেয়া হয়নি। )
(পুনর্মুদ্রিত)