এক হাতে তামিমের বিস্ময়

সু.খবর ডেস্ক
স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে এ ম্যাচে মাত্র চারটি বল খেলেছিলেন তামিম ইকবাল। লেখা থাকবে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৩ বল আর শেষের দিকে ফিরে এসে ১ বল খেলেছেন। কিন্তু লেখা থাকবে না শেষের এই একটি বল তামিমের এক যুগের ক্যারিয়ারে খেলা হাজারো বলের চেয়ে কয়েক হাজারগুণ দামি; লেখা থাকবে না এই একটি বলে কী অবিশ্বাস্য দেশাত্মবোধ, দলীয় চেতনা আর আত্মোৎসর্গ মিশে ছিল। কিন্তু লেখার অপেক্ষায় কি আর ইতিহাস বসে থাকে? এ যে লেখ্য ভাষারও অনেক ঊর্ধ্বে। বিশ্ব ক্রিকেট তাই বিনম্র চিত্তে জানাচ্ছে- স্যালুট তামিম, রেসপেক্ট!
শনিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে ৪৭তম ওভারের পঞ্চম বলটিতে মুস্তাফিজ যখন রানআউট হলেন, তখন বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। স্কোরবোর্ডে নয় উইকেট হলেও কার্যত সেটি দশম উইকেটের মতো। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই কব্জিতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে গেছেন তামিম; ততক্ষণে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে এও জানা যে, তার এশিয়া কাপে আর খেলা হচ্ছে না। অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ক্রিকইনফোর লাইভ কাভারেজে বলা হচ্ছিল- ৩ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে বিস্ময়ে হতবাক করে অবিশ্বাস্য এক সাহসী কাজ করে ফেললেন তামিম। চিকিৎসক কর্তৃক এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘোষণা শোনার ঘণ্টা দুয়েকের মাথাতেই নেমে পড়লেন মাঠে। যার বলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল, সেই সুরাঙ্গা লাকমালই তখন আক্রমণে। স্ট্রাইক এন্ডে দাঁড়িয়ে একটি বলই খেললেন তামিম। স্টাম্প সোজা আসা লাফিয়ে ওঠা বলটি ব্যাকওয়ার্ড লেগে খেললেন স্রেফ ডান হাত বাড়িয়ে। বাঁ হাত যে ধরারই উপায় নেই! ক্যামেরায় ধরা পড়ল, কেবল বুড়ো আঙুলটাকেই গ্লাভসের আঙুলে ঢুকিয়েছেন, বাকি চারটি বাইরে। কব্জির চিড় তার বাঁ হাতে ব্যাট ধরার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পরও ‘দলের উপকার হলেও হতে পারে’ ভাবনায় এই যে নেমে পড়েন- এ দেখে বিস্মিত ক্রিকেট বিশ্ব। মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে রেসপেক্ট হ্যাশট্যাগে আলোচিত হয়ে উঠতে লাগল তামিমের নাম। কেবল দর্শকরা নন, শেষ জুটিতে যাকে সঙ্গ দিয়ে মূল্যবান ৩২টি রান জোগাড় করার সুযোগ করে দিয়েছেন, সেই মুশফিকুর রহিমও তামিমকে ব্যাট করতে দেখে বিস্মিত, ‘ওকে নামতে দেখে বেশ অবাক হয়েছি। দলের প্রতি ওর দায়বদ্ধতা আর বৈশিষ্ট্যেরই দৃষ্টান্ত এটি।’
সূত্র : সমকাল