এখনও রোগীর ভরসা স্থানীয় ফার্মেসী

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার অধীনে চারটি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে মধ্যনগর থানার সবচেয়ে দূরের বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। মধ্যনগর থেকে রোগী নিয়ে সহজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছা যায়। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দূরবর্তী ইউনিয়নগুলো থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিয়ে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ হয়। গর্ভবর্তী মায়েদের জন্য যা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকায় হাসপাতাল না থাকায় বিভিন্ন অসুখে এখানকার মানুষ স্থানীয় ফার্মেসীর ঔষধ বিক্রেতাদের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ কিনে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। ওই অঞ্চলের মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি মধ্যনগরে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ কাজ পরের বছরের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় ফার্মেসীই রোগীদের একমাত্র ভরসা হয়ে আছে।
জানা যায়, ২০১৪ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে মধ্যনগর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন, আবাসিক ভবন, গভীর নলকূপ স্থাপন, সংযোগ সড়ক ও ভবনের চারদিকে দেয়াল নির্মাণসহ উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। স¤্রাট এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে সময় কিছুটা বর্ধিত করা হয়। কিন্তু তাতেও শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখন নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন, নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে কিন্তু সরোজমিনে দেখা যায় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে, সিঁড়ির পলেস্তারা ওঠে গেছে, বিদ্যুতের ওয়্যারিং ঠিকমতো করা হয়নি ফলে ভবনের ভেতর কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক তার ঝুলে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণজনিত ত্রুটি বিদ্যমান রয়েছে।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু না হওয়ার কারণে এখানকার মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
এ ব্যাপারে স¤্রাট এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে কোনো ভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি। তবে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে দাবি করে সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, গত রোববার জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালকের কাছে মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ব্যবহার উপযোগী সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করে সেখানে মেডিকেল সার্ভিস চালু করার জন্য বলা হয়েছে। বিল্ডিং হস্তান্তরের পরেও ঠিকাদারের সিকিউরিটির টাকা এক বছর জমা থাকে। ছোটখাটো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের একাধিকার বলার পরেও মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কাজ শেষ করে হস্তান্তর করছে না। তাই এটি চালু করা যাচ্ছে না। চলতি সপ্তাহে কাজ শেষ হয়েছে মর্মে তাদের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। আগামী ৭/৮ তারিখ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখবো কাজ শেষ হয়েছে কি না। কাজ পুরোপুরি শেষ না করে হস্তান্তর করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে না।’