এখনও শেষ হয়নি শাল্লার বাঁধের কাজ

শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লায় এখনও শেষ হয়নি হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ। বাঁধে মাটি ফেলা হলেও শেষ করা হয়নি দুরমুজ দেয়া, স্লোপ তৈরি ও ঘাস লাগানো। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বৃহস্পতিবার দিনভর শাল্লার কালীকুটা হাওরের ২০টি প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই পরিস্থিতি দেখতে পান।
বাঁধ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কোনো পিআইসির সভাপতি-সদস্যসচিব ও সদস্যদের বাঁধের কাছে পাননি। কাজের মান খুব খারাপ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় ৪৬ নং প্রকল্পের একজন সদস্যকে বাঁধে পেয়ে তিনি আটক করেন। আটককৃত পিআইসির সদস্যের নাম মিজানুর রহমান। তিনি শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের সঞ্জব আলীর ছেলে।
আটককৃত মিজানুর রহমান জেলা প্রশাসকের কাছে জানান, তিনি নামেমাত্র পিআইসির সদস্য। বাঁধের কাজের বিষয়ে সভাপতি-সদস্যসচিব তাকে কোন কিছুই জানায়নি। তার কোন মতামত নেয়া হয়নি। তিনি নামেই কমিটির সদস্য। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ২০ টি বাধেঁর প্রায় ১৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে দেখতে পান বাঁেধর বিভিন্ন অংশে সঠিবভাবে দুরমোজ দেয়া ও ঘাস লাগানো হয়নি। বাঁধের দুরমুজ সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট তদারককারী কর্মকর্তাদের দ্রুত নিয়ম মোতাবেক কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
বাঁধ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মুক্তাদির হোসেন, কৃষক নেতা মুক্তিযোদ্ধা অমর চাঁদ দাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্টু, শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস পিযুষসহ এলাকার লোকজন ।
জেলা প্রশাসক কালিকোটা হাওরের ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নং প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।
কৃষক নেতা মুক্তিযোদ্ধা অমরচাঁদ দাস বলেন,‘ শাল্লার কালিকোটা হাওরের বাঁধের কাজের মান খুবই খারাপ। কাজ দেখে সবাই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২০টি বাঁধ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কোন একটি পিআইসির সভাপতি-সদস্যসচিবকে পাননি। ’