এখন রোগী আসা মানেই সর্দি, জ্বর

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
‘গত ২৫ মিনিটে পাঁচজন রোগী দেখলাম। তাঁদের দুইজন শিশু, দুইজন মহিলা ও একজন বয়স্ক পুরুষ। তাঁদের প্রত্যেকেরই খুব বেশি সর্দি, জ্বর কিংবা কাশি আছে। বাইরে যাঁরা অপেক্ষমান আছেন তাঁদেরও অধিকাংশের হয়তো এমনই অসুখ। গত সপ্তাহ থেকে আজ পর্যন্ত এমন অসংখ্য রোগী দেখেছি। আজও দেখছি। চারদিকে শুধু জ্বর, সর্দি, মাথা ব্যাথা আর কাশি। এখন রোগী আসা মানেই সর্দি, জ্বর।’
কথাগুলো বলছিলেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাধীন পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ দৃশ্য শুধু পশ্চিম পাগলা উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নয় উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরই এমন দৃশ্য।
ডাক্তাররা বলছেন, বর্তমান সময়ের জন্য সর্দি, জ্বর, মাথা ব্যাথা কিংবা কাশি একটি স্বাভাবিক অসুখ। এ অসুখ নিয়ে এতোটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। করোনা ভাইরাসের জন্য গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে নিজেকে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে নিতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে। কিছুক্ষণ পরপর গা মুছিয়ে দিতে হবে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুবই সচেতন থাকতে হবে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল খেতে হবে। এছাড়াও রোগীকে নিয়মিত তরল খাবার খাওয়াতে হবে। বমি হলে প্রতিবার বমির পর খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈকত দাস বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য অনেক সময় জ্বর, কাশি হয়ে থাকে। জ্বর হলেই যে করোনায় আক্রান্ত তা ভাবার কারণ নেই। সাধারণ জ্বরের জন্য বাসায় প্যারাসিটামল ঔষধ খেলেই হবে। বয়স ও ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামলের ডোজ হিসাব করে নিতে হবে। তবে জ্বরের সাথে যদি করোনার কোন লক্ষণ থেকে থাকে যেমন শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যাথা এবং পাতলা পায়খানা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর আমাদের এখানে করোনা টেস্টের জন্য ৪ জন লোক নমুনা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ৩ জনেই পজেটিভ এসছেন। চারদিকে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মানুষের অসুখের সংখ্যা বাড়ছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে জ্বর হতেই পারে। যেহেতু করোনাকাল চলছে তাই আমাদের সকলেরই উচিত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। ভিটামিস সি সমৃদ্ধ ফলমূল বেশি খাওয়া। বেশি করে পানি পান করা ও লেবুর রস পান করা। মাস্ক ব্যবহার করা। সাধারণ জ্বর থেকে বাঁচতে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের দ্বারস্ত হতে হবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইদানিং সর্দি জ্বরের প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। আমাদের উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকেই সর্দি জ্বর নিয়ে লোকজন বেশি পরামর্শের জন্য আসছেন। এদের মধ্যে পরীক্ষা করালে বেশির ভাগই করোনা পজিটিভ আসতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ করোনা পরীক্ষা করাতে আগ্রহী নন। সবাই কে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সকলেই মাস্ক পরিধান করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করতে হবে।