এবার ‘ধুম্বইল’ দিয়ে ধান কাটবো

বিশেষ প্রতিনিধি
‘২৮ ধান কিছু কাটরাম, যদি সপ্তাহ্-দশদিন আল্লায় দিন ঠিক রাখইন, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত না হয়, তাইলে ‘ধুম্বইল’ (আনন্দ-উল্লাস করে) দিয়া এইবার ধান কাটমু। কাছির ভারি শুরু হলে ধান আরও তাড়াতাড়ি পাকবো।’ শুক্রবার দুপুরে দেখার হাওরে ধান কাটতে কাটতে কথাগুলো বলছিলেন হাওরপাড়ের জলালপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন।
জমির পাকা ধানে কাঁচি টান দিতে দিতে হাওরপাড়ের সচিন্দ্র কুমার দাস বলেন, ‘গতবারতো ধানের গোটা দেখছি না, এইবার ধানও হাত লাগাইছি (লাগিয়েছি), গতকালকে কিছু ২৮ ধান কাটছি, আজকেও কাটরাম, এর মধ্যে এক মণ ধান এক হাজার টাকায় বিক্রিও করেছি।’ তিনি জানান, দেখার হাওরে এইবার ২৮ ধান প্রতি একরে ৩০ থেকে ৩২ মণ হবে। ২৯ ধান হবে প্রতি একরে ৪৫ থেকে ৪৭ মণ।’
এই হাওরে শুক্রবারই প্রথম ধান কাটা এসেছেন হাওরপাড়ের সাদকপুরের কৃষি শ্রমিক মনির মিয়া। ৬ ভাগের এক ভাগ চুক্তিতে ধান কাটছেন তিনি। মনির মিয়া বললেন,‘একদিনে এক মনের মতো পাইমু। আল্লায় যদি বৈশাখী দেইন, এক মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা রোজগার করমু।’
হাওরপাড়ের জলালপুরের কৃষক ফজলু মিয়া জানালেন, এবার ধান ভাল হয়েছে, খুব বেশি বৃষ্টি না হলে ১৫ দিনের মধ্যেই হাওরের বেশিরভাগ ধান কেটে আনা যাবে। বড় কৃষকরা ২৮ জাতের ধান কিছু কিছু কাটা শুরু করেছেন। বৈশাখের ৮-১০ তারিখ থেকে ২৯ জাতের ধান কাটা শুরু হবে। ২৯ ধান কাটা শুরু হবার পর ৫-৬ দিন আবহাওয়া ভাল থাকলেই ধান ঘরে আনা যাবে।
সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহৎ দেখার হাওরের বর্ণনাই কেবল এমন নয়, একই অবস্থা জেলার অন্য হাওরগুলোয়ও। তবে যে হাওরে বিলম্বে পানি নেমেছে। ধান রোপনে বিলম্ব হয়েছে, সেই সব হাওরে এখনো ধান কাটা শুরু হয়নি।
জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুরের হালির হাওরের উঁচু অংশে, জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওর, নলুয়ার হাওর ও পিংলার হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঢুকলাখাই, পাগলার দক্ষিণের হাওর, কাচি ভাঙা হাওর, রাঙামাটি ও নাগডরা হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার তাল হাওরে, দিরাই-শাল্লার ছায়া ও বরাম হাওরে সামান্য পরিমাণে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদরের দেখার হাওরে বৃহস্পতিবার থেকে ২৮ ধান কাটা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বললেন,‘সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় এবার ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ৮ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। এবার ফলন যেভাবে হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে। এই পর্যন্ত ধান কাটার হিসাব এক শতাংশে পৌঁছায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাওরে যেভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে, দুয়েকদিন গেলে শতাংশে হিসাব করা যাবে।’ তিনি জানান, শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সকল উপজেলা মিলিয়ে ২৩ শতাংশ ধান গাছে ধানের গোটা এসেছে।