এবার ফাইল আটকা ভূমি মন্ত্রণালয়ে

বিশেষ প্রতিনিধি
এবার ভূমি মন্ত্রণালয়ে আটকা পড়েছে ডলুরা শুল্ক বন্দরের জমি বন্দোবস্তের ফাইল। গত ২৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখা শুল্ক বন্দরের জমি নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ করে অনুমোদনের জন্য চিঠি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বুধবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই চিঠির কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রায় ২ বছরে শুল্ক বন্দরের জমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতায় থাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেটাগাঁও মৌজার ৪৫ নম্বর জেএল’র সরকারি খাস খতিয়ানের ১ নম্বর দাগের ০.৪০ একর এবং ২ নম্বর দাগের ৯.৬০ একর জমি ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ২৬ ডিসেম্বর জমির মূল্য নির্ধারণের এই চিঠি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়। সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কাজী শামছুল হুদা সোহেল বলেন,‘শুল্ক বন্দরের জন্য সরকারি খাস খতিয়ানের ১০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে জমির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। ভূমি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবার পর কমিশনার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জমির মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন। এরপরই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে।’
জেলা প্রশাসকের জমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মুজিবুর রহমান বলেন,‘২৬ ডিসেম্বর জমির মূল্য নির্ধারণের চিঠি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের কোন চিঠি আসেনি।’
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য ১৫ একর জমি চেয়ে ভ্যাট ও কাস্টমস’এর কমিশনার অফিস সিলেট থেকে ইন্টারনাল রিসোর্স ডিপার্টমেন্টে (আইআরডিতে) চিঠি পাঠানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর জেলা প্রশাসকের পক্ষে সিলেট ভ্যাট ও কাস্টমস’এর কমিশানরকে চিঠি দিয়ে জানান, ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য নির্ধারণ হওয়া জমি সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত। জমি বন্দোবস্ত নেবার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সর্বশেষ গত ১১ জুন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস ডলুরা শুল্ক বন্দরের জন্য জেএল নম্বর ৪৫’এর ১ ও ২ নম্বর দাগে ১০ একর অকৃষি জমি ২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাব পাঠায়। প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পাড়ের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় আমদানী রপ্তানী শুরু করা হয়নি।
গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে ডলুরা এলাকায় মতবিনিময় করেছেন। সভায় তৎকালীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বর্তমান মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
নজিবুর রহমান ওই সময় বলেছিলেন, ‘শুল্ক বন্দর স্থাপনের উপযোগী সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশকিছু কাজ হয়েছে। যেহেতু দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে আন্তরিক তাই দ্রুত এখানে শুল্ক বন্দর চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’