এভাবে এইচ,এস,সি পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না

মীর মোশারফ হোসেন
গত মার্চ মাসের শেষার্ধ থেকেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ইতিমধ্য এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য এইচ, এস, সি পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে পরিস্তিতি স্বাভাবিক হলে পনের দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিশেষ করে এইচ, এস, সি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী, অবিভাবক এবং শিক্ষকগণ বেশ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যগত নিরাপদ অবস্থা ফিরে না আশা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না বলেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা আরো বাড়ছে। একই সাথে পড়াশুনার মন-মানষিকতা ও পরিবর্তন হচ্ছে। সাথে সাথে পড়া-লেখা যে গতিতে চলছিল সে গতিতেও বেশ ভাটা পড়ছে। যদিও সকলেই শিক্ষার্থীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য উপদেশ দিয়ে চলছেন। তারপরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় সকল মহলেই এক ধরণের হতাশা বিরাজ করছে। নীতি-নির্ধারকগণ প্রতিনিয়তই চিন্তা-ভাবনা করছেন কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। অনেকেই ধারনা করেছিল আগস্টের মধ্যেই হয়তোবা পরীক্ষা নেওযা যাবে। কিন্তু এটাও এখন অনিশ্চিত। নতুন করে বলা হচ্ছে সিলেবাস ঠিক রেখে পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে, সময় কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে আসলে প্রকৃত পরীক্ষার দাবি কতটা পূরণ হবে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
এরিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অনলাইনে আনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় সকল বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে নির্ধারিত কিছু অঞ্চলে লকডাউন চলছে। এই লকডাউনও এথন এক্সপেরিমেন্টাল পর্যায়ে আছে। লকডাউনের সুফল এখনো পাওযা যায় নাই। যদি লকডাউনে কাজ না হয় তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির সাথে যোগ হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। অবশ্য বন্যা এই দেশের জন্য নতুন নয়। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।
বিশেষ কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতিতে এইচ, এস, সি পরীক্ষা আটকে না রেখে শিল্পকারখানা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাবলিক পরীক্ষাগুলো নেওয়ার চিন্তা করা যায় কিনা। এখনতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় বলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব না। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার জন্য ভ্যানু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে রেখে পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যানুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না। আর যাতায়াতের জন্য পরীক্ষার দিন শুধুমাত্র শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যবহারের জন্য গণপরিবহন নির্ধারিত করে দিয়ে এইচ, এস, সি পরীক্ষা নেওয়া যায় কিনা। অনেকটা নির্বাচনী কার্যক্রমের কায়দায়। আর কক্ষ প্রত্যবেক্ষকেরও কোন সমস্যা হবে না যেহেতু সকল শিক্ষকই এখন অবসরে আছেন। প্রবেশ এবং বাহিরের সময় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর জন্য প্রবেশ পথে যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখলেই হবে। তাছাড়া এতদিনে স্বাস্থ্যবিধি মানার চর্চা আমাদের যথেষ্ট হয়েছে। আর এইচ, এস, সি পরিক্ষার্থীরা সকলেই বড়। আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণতো সকলেই সুশীল। বর্তমানে যা বলা হচ্ছে মাস্ক পড়া আর নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে পারলেই করোনা সংক্রমিত হওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। আমাদের এতদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা যদি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক নির্ধারিত দূরত্বে বসার ব্যবস্থা করতে পারি তবে এইচ, এস, সি পরীক্ষা নিতে আর কোন বাঁধা থাকে না। শিল্প কারখানা যদি চালানো যায় তবে এইচ, এস, সি পরীক্ষা নিতে তেমন কোন সমস্যা হবে না। আমরা যদি এইচ, এস, সি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সফল হতে পারি তবে অন্যান্য পরীক্ষা ও নিতে পারব।
একটা এইচ, এস, সি পরীক্ষার উপর আরো অনেক কিছু নির্ভর করছে। এই এইচ, এস, সি পরীক্ষার জট ছাড়াতে পারলে অন্য আরো অনেক সমস্যার জট খোলে যাবে। আশা করি কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবনাটি বিবেচনা করবেন।
লেখক: মীর মোশারফ হোসেন, প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ
জামালগঞ্জ সরকারি কলেজ, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।