এলাকাবাসীর স্বপ্নপূরণ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
অবকাঠামোতে বদলে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। সাঁকোর স্থলে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে সেতু। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে। যেটি ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান রাস্তার একটি সেতু।
ইউনিয়নের বীরগাঁও বাজারের কাছের খালের গুড়িয়াখালে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছে। সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ, আগামী জুলাই মাসে এর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন এলইজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী। সেতুটির নির্মাণ করছে ‘মামুন কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা যায়, ‘গুইড়াখালের পুল’ নামে এই সেতু নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের ধরমপুর, ব্রাহ্মণগাঁও, পাইকাপন, উফতিরপাড়, বীরগাঁও ও হাঁসকুড়িসহ স্থানীয় এলাকার ১৭টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের উপকারে আসবে।
সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলেও থেকে যাবে রাস্তা নির্মাণ কাজ। তাই এই সেতুকে কাজে লাগাতে বীরগাঁও খালপাড়ের কবরস্থানের কাছের পয়েন্ট থেকে গুড়িয়া খালের উপরের সেতুর মুখ পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করতে হবে। না হলে সেতুটি ব্যবহার করা যাবে না। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে ১৭টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
জানা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের একমাত্র বাজার বীরগাঁও বাজার। এলাকার মানুষ সকলেরই চলাচলের রাস্তা বীরগাঁওয়ের খাল পাড় হয়ে পাগলার দিকে। এই খালে সেতু নির্মাণ হলে বীরগাঁও ইউপির সলফ, উমেদ নগর, খাউয়াজুড়ি, উফতিরপাড়, নগদীপুর, দৌলতপুর, পাইকাপন, কামরিবিচ, ফুকিডর, রাজনাও, সিকন্দরপুর, হুসেনপুর, ধরমপুর, ব্রাহ্মণগাঁও ও নতুন ব্রাহ্মণগাঁও এর মানুষ সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন।
অপরদিকে হাঁসকুড়ি, বীরগাঁও, বীরগাঁওয়ের পূর্বহাটি, নয়াবাড়ি, দক্ষিণ হাটি, পশ্চিমপাড়া, গাঙপাড় ও খালপাড়ের মানুষের যাতায়াত বাড়বে বীরগাঁও বাজারে। এতে ১৭ গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে পরিবর্তন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বীরগাঁওয়ের খালপাড়ের সেতু থেকে গুড়িয়াখালের সেতুর মুখ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা। পয়েন্ট থেকে গুড়িয়া খালের মুখ পর্যন্ত রাস্তা হাওরের ঢেউয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে। শুধু সেতু নির্মাণ করলে হবে না, রাস্তাও দ্রুত নির্মাণ করতে হবে।
ধরমপুর গ্রামের মৎস ব্যবসায়ী কালামন মিয়া বলেন, ‘এই সেতুর কাজ শেষ হলে আমরা ভালভাবে ব্যবসা করতে পারব। ব্যবসায় আমাদের উন্নতি হবে। মানুষের আসা যাওয়া বাড়বে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা- বাণিজ্য হবে।’
নতুন ব্রাহ্মণগাঁওয়ের মোর্শেদ আলী বলেন, ‘এখন আমরা সব ধরণের অসুবিধায় আছি। ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে হলে দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। সেতু না থাকায় গাড়ী চলে না। সেতুর কাজ শেষ হলে পুরো ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ৫০ হাজার বেশি মানুষের উপকার হবে।’
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন,‘এই সেতু নির্মাণের ফলে আমাদের ইউনিয়নে নতুন যুগের সূচনা হবে। প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান মহোদয়ের সুদৃষ্টি আছে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়নে। আমরা আশা করি সেতু সংলগ্ন রাস্তার কাজও তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে।’
এলজিইডির দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রুবাইয়াৎ জামান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটি হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছে, তবে আমরা গ্রহণ করিনি। কিছু কাজ বাকী আছে। কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী জুলাই মাসে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় উদ্বোধন করবেন।’