এলাকাবাসী নানা কর্মসূচী পালন করছে

স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নাম ‘শান্তিগঞ্জ’ করার দাবি ওঠেছে। উপজেলাবাসী নাম পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নাম পরিবর্তন ও বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার একই দাবিতে উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে পরিকল্পনামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সদরে মন্ত্রী এমএ মান্নানের উপস্থিতিতে উপজেলা কৃষক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্র লীগের ঈদপুনর্মিলনী সমাবেশে সকল বক্তাই দাবি করেছেন, উপজেলার নাম পরিবর্তনের। এই দাবিতে এর আগে মানববন্ধন হয়েছে উপজেলায়।
জেলার বৃহৎ উপজেলার একটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা। ৮ ইউনিয়নের উপজেলায় ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার। লোকসংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি। ইতিপূর্বে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে উপজেলা পরিষদকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ গত ১৬ মে তাদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় একইভাবে নাম পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা পরিষদের প্রস্তাবিত নাম ‘শান্তিগঞ্জ’।
এক সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। জেলা শহরের দক্ষিণে এর অবস্থান হওয়ায় মানুষের কাছে এটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। সদর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকায় ছিল আটটি। এক পর্যায়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আট ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে। এরপর ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জ’ উপজেলা হিসেবে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশিত হয়। নতুন উপজেলা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮ সালের ১৮ মে। শুরুতে সদর উপজেলা পরিষদ ভবনেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম চলে। পরে ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট ভবনে। সেখানে আরও তিন বছর কার্যক্রম চলে। একই সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে শান্তিগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে ২০১২ সালে সেখানে কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে শান্তিগঞ্জ এলাকায়।
বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নানের বাড়িও এই উপজেলায়। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের (জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) সাংসদ তিনি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নাম পরিবর্তন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়,‘নাম বিভ্রাটের যন্ত্রণায় পড়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী, এই উপজেলার অনেক সরকারি-আধা সরকারি অফিসের জরুরি চিঠিপত্র কোন সময় সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়, না হয় সুনামগঞ্জে চলে যায়, চিঠি ফেরৎ আসতে আসতে কাজের সময় পার হয়ে যায়।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি স্মরণ বলেন,‘আমরা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নয়, একটি স্বতন্ত্র নাম চাই। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীগণ এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বিশিষ্টজনেরা মন্ত্রী মহোদয়ের (পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান) সঙ্গেও আলোচনা করেছেন, আমরা একটি স্মারকলিপিও দিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের প্রিয় নেতা জনগণের দাবি’র বাস্তবায়ন ঘটাবেন।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন মো. ফারুক আহমদ। তিনি গত নির্বাচনে আবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নাম নিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এবং সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জÑএই উপজেলার নাম নিয়ে বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বরাদ্দ চলে যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। সিলেট গুরুত্ব বেশি পাওয়ায় এটি হয়ে থাকে। এ রকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। পরে আবার বরাদ্দ কেটে আনতে হয়েছে।
ফারুক আহমদ জানালেন, শান্তিগঞ্জ কোনো গ্রাম বা মৌজার নাম নয়, এটি একটি বাজারের নাম। যেহেতু শান্তিগঞ্জ এলাকাতেই উপজেলার প্রশাসনিক ভবন এবং এখান থেকেই সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাই উপজেলার নাম শান্তিগঞ্জ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ নামটি সুন্দর এবং অনেকেরই পছন্দ।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন জানালেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী এই দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করে আসছেন। মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ি এই উপজেলায় হওয়ায় মানুষের প্রত্যাশা বেশি। সকলেই মনে করছেন শীঘ্রই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় উপজেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলন বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী এই নামে উপজেলা থাকুক এটা চায় না। এটি বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী, এলাকার সংসদ সদস্যের কাছে মানুষ বার বার নাম পরিবর্তনের জন্য ধরণা দিচ্ছে। তিনি এলাকার নন্দিত নেতা, অবশ্যই মানুষের দাবির পক্ষে কাজ করবেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সকল কাজ মানুষের কল্যাণের জন্য। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন হলে মানুষের কল্যাণ হবে, এটি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমিও মনে করি। এই উপজেলার মানুষ নাম বিভ্রাটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে বার বারই নানাভবে আমাকে জানাচ্ছেন লোকজন। আমার নিজের উপজেলাও এটি। আমি বলেছি, সবকিছুই নিয়মমাফিক হতে হবে, এটিও সেভাবেই হবে। আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এলাকাবাসীর দাবি পৌঁছে দেব।’