এলাকায় থাকাই উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল কর্মস্থলে থাকেন না, এমন একটি অভিযোগ নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের জনৈক জামিল মিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের এরূপ অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ জানুয়ারি সরেজমিন তদন্ত করেছেন। তিনি ওই সময় কামরুজ্জামান কামরুলকে উপজেলায় পাননি। তদন্তকালে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়ও তাঁদের উপজেলা চেয়ারম্যানের অবস্থান নিয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি। ভাইস চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেশিরভাগ সময়ে কর্মস্থলে থাকেন না। মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাঁরা তাঁকে পাচ্ছেন না। মূল অভিযোগকারী অভিযোগে উল্লেখ করেন কামরুল প্রায়শই দেশের বাইরে চলে যান। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কামরুজ্জামান কামরুলকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদটি অনেকটা সরকারি কর্মকর্তার মতো। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিজস্ব অফিস ও জনবল রয়েছে। তাঁর নিজস্ব কার্যপরিধি আছে। প্রতিনিয়ত তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন দিতে হয়। উপজেলা পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির তিনি সভাপতি। ওইসব সভায় সভাপতিত্ব করতে হয় তাঁকে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থেকে দীর্ঘদিন তাঁর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কোন সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাইরে যেতে হলে তাঁকে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ ও অন্য একজন ভাইস চেয়ারম্যানের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হয়। জনাব কামরুল যখন কর্মস্থলে থাকেন না তখন এরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করেন কিনা আমাদের জানা নেই। তবে ধারাবাহিকভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগটি আমলে নিলে অনুমান করা যায় তিনি এরূপ পদ্ধতি অনুসরণ না করেই অনুপস্থিত থাকছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে উপজেলার উন্নয়ন কাজ সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রাদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় থেকে যায়। এতে জনগণের দুর্ভোগ ও সরকারি কাজে পদ্ধতিগত জটিলতা তৈরি হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর জন্য এমন অবস্থা কাক্সিক্ষত নয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন। তাই ভোটারদের নানাবিধ প্রত্যাশাও তৈরি হয় তাঁকে ঘিরে। নানা কাজে মানুষ উপজেলায় এসে যখন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে খুঁজে পান না তখন নিশ্চয়ই তারা হতাশ হন। জনগণের হতাশা তৈরিকারী কোন কাজই একজন জনপ্রতিনিধির নিকট থেকে কেউ আশা করেন না।
আমরা চাইব জনাব কামরুল নিয়মিত অফিসে থেকে এলাকার উন্নয়ন কাজে নেতৃত্ব দিন। গতবছর হাওরের দুর্যোগে তাঁর বেশকিছু উদ্যমী কাজ জেলাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তখন তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। এখনও হাওরে বাঁধ নির্মাণসহ ফসল চাষাবাদের কাজ চলছে। তাহিরপুরের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হলো এই বোরো ধান। এমন সময়ে এলাকায় থেকে চলমান বাঁধ নির্মাণের কর্মযজ্ঞ তদারকি করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব ছিল। তাই আমরা চাইব অবিলম্বে তিনি নিজ এলাকায় এসে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদটি কখনও ধারাবাহিক অনুপস্থিতির ঘুর্ণিপাকে আবদ্ধ থাকতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইন নির্ধারিত উপায়েই অগ্রসর হওয়া উচিৎ।