এলাকা পরিদর্শনে প্রকৌশলীগণ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহর বর্ধিতকরণ, সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি এবং জন চলাচলের সুবিধার্থে হালুয়ারগাঁও-আমবাড়ি (বাইপাস সড়ক বা বিকল্প সড়ক) সড়ক বাস্তবায়নে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বুধবার সকাল থেকে এলজিইডি’র সিলেট বিভাগীয় প্রকল্প পরিচালক, সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলীসহ অন্যান্য প্রকৌশলীরা সরেজমিনে হালুয়ারগাঁও-আমবাড়ি বিকল্প সড়ক এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলীরা এ প্রতিবেদককে বলেছেন,‘এই বিকল্প সড়ক করা এখন সময়ের দাবি।’
দুপুর ১২টা থেকে এলজিইডির সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আলী হোসেন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী হরজিৎ সরকার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ দুই উপজেলার অন্যান্য প্রকৌশলীরা আমবাড়ি থেকে হালুয়ারগাঁও পর্যন্ত বিকল্প সড়কের যেটুকু পায়ে হেঁটে দেখা সম্ভব দেখেছেন এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এই সড়কের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেছেন।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ বলেন,‘সুনামগঞ্জ- সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সুনামগঞ্জ-ছাতক আঞ্চলিক সড়ককে যুক্ত করলে সুনামগঞ্জ শহরে যানজট কমে যাবে। শহর বর্ধিতকরণে এই সড়ক ভূমিকা রাখবে।’
এলজিইডি’র সিলেট বিভাগীয় প্রকল্প পরিচালক আলী হোসেন চৌধুরী বলেন,‘সুনামগঞ্জ শহরে প্রবেশ না করে জেলা শহরের পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকার মানুষের সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য আমবাড়ি-হালুয়ারগাঁও সড়ক কাজ করবে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের ধারারগাঁও’র বাসিন্দা পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছেন। বার বার তিনি এ জন্য যোগাযোগও করছেন। এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। বুধবার আমরা সরেজমিনে এই এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সড়কের বর্তমান অবস্থা, কোথায় কী করা লাগবে, এসব বিষয় দেখেছি। আমাদের মনে হয়েছে সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যোগাযোগের একটি মাত্র সড়ক থাকায় এ ধরনের বিকল্প সড়কের প্রয়োজন রয়েছে। বিপদ-আপদের সময় এই সড়কটি ব্যবহার করা যাবে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীকে পরামর্শ দিয়েছি তারা যেন সড়কের ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর পর কী অবস্থা, কী ধরনের কাজ করতে হবে, তা জানিয়ে তথ্য বা রিপোর্ট পাঠান। এরপর এলজিইডির ডিজাইন ইউনিট সড়কের ডিজাইন করবে এবং কোন প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ করা সম্ভব তাও নির্ধারণ করা যাবে।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জবাসীর জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বাস্তবায়নের লক্ষে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সুনামগঞ্জের ধারারগাঁওয়ের বাসিন্দা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি’র) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অনুরোধপত্র (ডিওলেটার) পাঠিয়ে ছিলেন।
ড. সাদিকের এই পত্রের প্রেক্ষিতে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ এলজিইডিকে বিকল্প সড়কের সম্ভাব্যতা এবং উপকারিতা জানানোর জন্য এই মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্দেশ দেন।
এলজিইডি’র সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর এই পত্রের উত্তর দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়, হালুয়ারগাঁও, ইসলামপুর, শান্তিগঞ্জ, বেতগঞ্জ, রামপুর, খাগুড়া ও আমবাড়ি বাজার সড়ক হলে এটি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বাইপাস সড়ক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বের হবার একটি মাত্র সড়ক থাকায় যানজট ক্রমশ: বাড়ছে। প্রস্তাবিত সড়কটি দুই দিক থেকে সড়ক ও জনপথের আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর আগেই এই সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে এলজিইডির ঐঋগখওচ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ কিলোমিটার অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজও শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব ড়িৎশ না থাকায় ঢেউয়ে সড়ক নষ্ট হতে থাকায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। সড়কটির ১৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৭ কিলোমিটার অংশ হাওরের পাশ দিয়ে যেতে হবে। এজন্য ঢ়ৎড়ঃবপঃরাব ড়িৎশ অত্যাবশ্যকীয়।