এসআই সাইফুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুরুতর

বিশ্বম্ভরপুর থানার সাব ইন্সেপেক্টর সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন ওই উপজেলারই ডলুরা (কাপনা) গ্রামের যুবক দিলোয়ার হোসেন। বৃহস্পতিবার দিলোয়ার জেলার পুলিশ সুপারের নিকট দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেছেন, ২ জানুয়ারি চাচার পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে পুলিশের সোর্স জামাল মিয়ার সাথে তার বচসা হয় মথুরকান্দি বাজারে। এরপর ওই দিন রাত ২ টায় তাকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে আসেন সাব ইন্সেপেক্টর সাইফুল ইসলাম। থানায় নিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এসআই নতুবা তাকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। দিলোয়ার এত টাকা দেয়ার ক্ষমতা তার নেই জানালে রাতে তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। সকালে দিলোয়ারের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সুনু মিয়া অপর একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে থানায় তাকে ছাড়াতে যান। সুনু মিয়া জমি বন্ধক দিয়ে ২০ হাজার টাকা এসআই সাইফুলকে দিয়ে দিলোয়ারকে ছাড়িয়ে আনেন। সে সময় সাদা কাগজে সুনু মিয়ার স্বাক্ষর রাখা হয়।
দিলোয়ারের অভিযোগটি গুরুতর এ কারণে যে অভিযোগটি এমন এক সরকারি পদধারীর বিরুদ্ধে যিনি স্বয়ং আইন রক্ষায় নিয়োজিত। মানুষ বেআইনি যেকোন ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে সর্বাবস্থায় পুলিশের নিকট আশ্রয় কামনা করে আইনি প্রতিকার চান। এরকম অবস্থায় যখন পুলিশের কোন এক সদস্য নিজে আইন ভঙ্গ করে বেআইনি তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে মানুষের চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে যান তখন সেটি হয়ে উঠে অতি বড় মাত্রার অপরাধ। দিলোয়ারের অভিযোগ মোতাবেক পুলিশ সোর্সের সাথে তার কথা কাটাকাটির রাতেই সাইফুল তাকে আটক করেন। আমরা প্রশ্ন করতে পারি, দিলোয়ারকে কেন এসআই সাইফুল আটক করলেন? দিলোয়ারের বিরুদ্ধে আটকাদেশসহ কোন মামলা দায়েরকৃত ছিল কিনা? দিলোয়ার কি কোন ধরনের অপরাধ কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন? প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে পালটা প্রশ্ন হলো, তাহলে পরদিন তাকে ছেড়ে দেয়া হলো কোন এক্তিয়ার বলে? আর প্রশ্ন দুটোর উত্তর না-বোধক হলে এসআই সাইফুলকে জবাব দিতে হবে কেন গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকে এক যুবককে তিনি ধরে আনলেন।
জেলার পুলিশ সুপার মাত্রই কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যে যেকোন অনৈতিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। আমরা তাঁকে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানিয়েছি। তাঁর এই পদক্ষেপ ছিল পুলিশ বাহিনির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রয়াস। পাশাপাশি সাবইন্সেপেক্টর সাইফুল যে কাজটি করলেন, অভিযোগ সত্য হলে, সেটি পুলিশের ভাবমূর্তিকে কলুষিত করার প্রয়াস। এরকম অবস্থায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব হয়ে পড়ে পুলিশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি প্রচারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখা ওই সাইফুল ইসলামকে জবাবদিহিতিার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। আমরা আশা করি তিনি পুরো অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর পদক্ষেপই নিবেন।
পুলিশ বাহিনির কোন নেতিবাচক সমালোচনা আমাদেরকে পীড়িত করে। কারণ এই বাহিনির উপর নির্ভর করে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা। সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে নাকি বাড়বে সেটিও নির্ধারিত হয় পুলিশ বাহিনির কর্মতৎপরতার উপর। এই বাহিনির কোন এক সদস্যের বিরুদ্ধে যখন গুরুতর অভিযোগ উঠে তখন শান্তি প্রত্যাশীদের মনে অশান্তির ঝড় বয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক নয় কি?